• রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

হাজীগঞ্জে গেটে তালা দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগ

আপডেটঃ : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড়-বদরপুর গ্রামে মাদরাসার নাম ব্যবহার করে মসজিদে গাউছুল আজম জিলানী (রা:) নামক মসজিদ ও কলিমউদ্দিন বেপারী বাড়ীসহ সংলগ্ন কয়েকটি বাড়ির চলাচল পথ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন বদরপুর গ্রামের স্থানীয় ও এলাকাবাসী। বুধবার দুপুরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় আব্দুল মালেক জানান, ২১৪নং টোরাগড় মৌজার সিএস ১৫৫, আরএস ১৪৬নং খতিয়ান ভুক্ত সাবেক ২৩১ দাগে ১৭ শতাংশ ভূমি আপোষমূলে ফয়জুননেছা বিবি ১৯৬৯ সালে ৬৫৩২নং দলিলমূলে বদরপুর মসজিদে গাউছুল আজম জিলানী (রা:) নামক মসজিদে ৬ শতাংশ এবং তার ভাইয়ের ছেলে আবুল হাশেমকে ১ শতাংশ ভূমি দান করেন।
বাকি ১০ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশ রাস্তা এবং অবশিষ্ট ৭ শতাংশসহ মোট ১৪ শতাংশ ভূমি বিএস জরিপ ৮২০নং খতিয়ানে বদরপুর মসজিদ কমিটির পক্ষে সেক্রেটারী উল্লেখ করে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে কলিম উদ্দিন বেপারী ও আব্দুল হক মিয়া মসজিদ ও মাদরাসা সেক্রেটারী বরাবর ৫.৪০ শতাংশ ভূমি দলিলমূলে (নং- ১১৬৭) দান করেন।
ওই দলিলে মসজিদ ও মাদরাসায় যাতায়াতের জন্য চলাচলের পথ হিসেবে ১ শতাংশ ভূমি উল্লেখ করা হয়। মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর চলাচলের পথে ফটক (গেট) নির্মাণ করেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই এই পথে চলাচল করতেন মুসুল্লীরা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ পূর্বে ফটকে তালাবদ্ধ করে দেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরী। যার ফলে মুসুল্লীরা মসজিদ যেতে পারে না।
মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে শামছুল হক বেপারী বলেন, মাদরাসার নাম করে মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরী মসজিদে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন। এ ছাড়াও তিনি মসজিদে মুসুল্লীদের দেয়া তালা ভেঙ্গে মাইকের মেশিন ও মুসুল্লীদের দানকৃত টাকা এবং ইমামের হুজরাখানা ভেঙ্গে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যান। পরবর্তীতে মুসুল্লী ও এলাকাবাসীর চাপে পড়ে তিনি মাইকের মেশিন দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরী জানান, মাদরাসা মাঠ দিয়ে মুসুল্লীরা মসজিদে যাতায়াত করতেন। তিনি বলেন, বদরপুর দরবার শরীফ কমপ্লেক্সের আওতাধীন এই মসজিদটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিলো। পরবর্তীতে নতুন করে মসজিদ ও মসজিদে যাতায়াতের জন্য সুবিশাল ফটক (গেট) নির্মাণ করা হয়। নতুন এই মসজিদে গত ২৯ মে থেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদরাসা মাঠ দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চলাচলের কোন পথ নেই। বরং মসজিদের মুসুল্লী, স্থানীয় ও এলাকাবাসীর সুবিধার্থে দরবার শরীফ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশ দিয়ে রাস্তার জন্য মাদরাসা ও কমপ্লেক্সের নিজস্ব ভূমি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এই রাস্তা (পৌরসভা কর্তৃক পাকাকরণ) দিয়ে তারা চলাচল করছেন। মাইকের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু নতুন মসজিদে নিয়মিত নামাজ হচ্ছে তাই পুরাতন ও জরাজীর্ণ মসজিদ থেকে নতুন মসজিদের মাইক স্থানান্তর করা হয়েছে।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…