অমরেশ দত্ত জয়ঃ

চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলায় নানা পরিচয়দাতা এক বৃদ্ধা বাড়ীয়ালা কর্তৃক ভড়াটিয়ার ৭ বছরের কন্যা শিশুকে মুখ চেপে ধরে (নাতনী) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা এখন চাঁদপুরের টক অফ দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।সর্বমহলে এই ঘৃণ্য কাজের জন্য দোষী ওই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী উঠেছে।

 

জানা যায়,পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন রাতে বেপারী বাড়ীর আলমগীর হোসেন বেপারী তার এক ভাড়াটিয়ার শিশু কন্যা সন্তানের সাথে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ২৭শে মে বুধবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই কন্যা শিশুর মা মনি বেগম সাংবাদিকদের জানান, আমরা বেপারি বাড়িতে ওই আলমগীর হোসেন বেপারীর(৫০) বাসায় ভাড়া থাকি। তিনি আমার মেয়েকে ঘটনারদিন রাতে মুখ চেপে ধরে অন্য কক্ষে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। আমার মেয়ে মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমি ওই নরপশুর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি।

 

এ ঘটনায় ওই শিশুর মামা মোঃ আলম সাংবাদিকদের জানান,একটা ৭ বছরের শিশুকে যে নরপশু ধর্ষণ করতে পারে। তার বেঁচে থাকার অধিকার নাই। আমরা এই ঘৃণ্য কাজের জন্য ওই নরপশুর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।এ ঘটনায় শিশুর মামাতো ভাই মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান,আমার ছোট বোনের সাথে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। তবুও এরপর ওরা আমাদের বোন কে হাসপাতালে পর্যন্ত আনতে দেয়নি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা পরদিন অর্থাৎ বুধবারে ওকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।

 

এ বিষয়টি নিয়ে লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।এদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে ওই শিশু সন্তান জানান,সে শহরের একটি স্কুলে ১ম শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। তার নানা(আলমগীর) তাকে মুখ চেপে ধরে অন্য কক্ষে নিয়ে যায়। পরে তাকে বিভস্ত্র করে লম্পটামি করে।তার সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা কাউকে না জানাতে হুমকি ধমকি দেওয়া হয়। এদিকে এ ঘটনায় ওই বাসা ভাড়া দেওয়া বাড়ীর মালিক আলমগীর হোসেন বেপারী সাংবাদিকদের জানান,আমি ওই শিশুটিকে নাতনীর চোখে দেখতাম। তাই প্রতিদিনকার আদর করার মতোই ওইদিন রাতেও তাকে আদর করেছি।তবে বুজতে পারছি না আদর করতে গিয়ে শেষে কিভাবে কি করে ফেললাম। তিনি বলেন,আমি মূলত একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিলাম। এখন আইনগতভাবে আমার যা শাস্তি হয় হবে। তবে আমি এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি নিয়ে ক্ষমাপ্রার্থী এবং অনুতপ্ত।

 

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল সাংবাদিকদের জানান,শিশুটি হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি রয়েছে।আমরা তার চিকিৎসা সুন্দরভাবে পরিচালনা করছি। এখন পর্যন্ত তার শরীরের সব অঙ্গ ঠিকঠাক দেখতে পাচ্ছি। এ ঘটনা প্রসঙ্গে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান,ক্লাস ওয়ানে পড়ুয়া একটি কন্যা শিশু ধর্ষণ হওয়ার খবর জানতে পেরেছি।তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির পরিবার থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তবে ওর চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

Share This post