সফিকুল ইসলাম রিংকু:-
চাঁদপুর মতলব চেন্নাই সড়কে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কালভার্ট নির্মাণের কাজে নিম্নমানের মালামাল ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কালভার্ট নির্মাণের কাজে নিম্নমানের ভুতু ভাঙ্গা গুড়া পাথর, ঢালাই কাজে সিমেন্ট কম দেওয়া, রড কম লাগানোসহ ব্যপক অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

চাঁদপুর সড়ক ও জনপদের এই দুইটি কালভার্ট নির্মাণে একটি প্যাকেজে কুমিল্লার আমিনুল হক ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছেন। এরমধ্যে পেন্নাই সড়কের কালী ভাংতি এলাকায় কালভার্টটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজে করলেও আরং বাজার এলাকার কালভার্টটি স্থানীয় ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়।

সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে এই দুটি কালভার্ট নির্মাণ কাজ করার সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন দিনে কাজ না করলেও রাতের আধারে কালভার্টের পিলারসহ উপরের ঢালাই করেছেন। এ সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৪ টুকরি পাথর ও ৪ টুকরি সিলেকশন এর সাথে ১ ব্যাগ সিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তারা সাত থেকে আট টুকরি পাথরের সাথে একটি করে সিমেন্ট ব্যবহার করেছেন।

এ সময় স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার বাঁধা দিলে তারা তাদের সাথে বাকবিতন্ডা লিপ্ত হয়েছেন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

সেখানে দায়িত্বে থাকা এসডিই মোশারফ হোসেনকে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করার বিষয়টি অবগত করলেও তিনি এড়িয়ে যান এবং এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এভাবে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও ভুতু ভাঙ্গা পাথর দিয়ে কালভার্ট নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক ও জনপদের গুটি কয়েকজন লোক লাভবান হলেও সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে কালভার্ট নির্মান বিফলে যাচ্ছে।

বিষয়টি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সড়ক ও জনপদের এই কালভার্ট দুটি নির্মাণকাজে যে নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Share This post