• বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

চাঁদপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে পঙ্কজের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল !

আপডেটঃ : সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২০

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ
চাঁদপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে পঙ্কজ মজুমদারের মৃত্যু নিয়ে শহরে এক ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় লোকমুখে শুনা যায়,পঙ্কজের স্ত্রী ঝর্ণা ডিসি অফিসে এমএলএস পদে চাকুরি করে।
তার ২ মেয়ে প্রমা ও নিধি(দশম শ্রেণীর ছাত্রী)। এদের মধ্যে প্রমার(একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী) কোন এক কথিত প্রেমিক রয়েছে। যার সাথে মা হয়ে ঝর্ণারও আবেগঘন সুসম্পর্ক তৈরি হলে বিষয়টি জেনে যায় স্বামী পঙ্কজ। এ ঘটনায় ক্ষোবে পঙ্কজ ঘটনার দিন সকালেও ডিসি অফিসে গিয়েছিলো।
যা ডিসি অফিসের সিসি ক্যামেড়ার রেকর্ড দেখেও প্রমাণ মিলতে পারে। সেখানে স্ত্রী ঝর্ণার সাথে কথার বাক-বিতন্ডা হয় পঙ্কজের। একপর্যায়ে সে ডিসি অফিস হতে ফিরে এসেই ট্রেনের নীচে কাটা পড়ার ঘটনা ঘটায়। নিহতের শশুড় সুনীল বরণ সরকার জানান, তার জামাতা পংকজ মজুমদারের কলেজে পড়ুয়া বড় মেয়ের সাথে কোন এক যুবকের সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে তাদের পারিবারিক ভাবে কি হয়েছে তা তিনি কিছুই বলতে পারবেন না।
তিনি বলেন,আমার জামাতা দুপুরে আমাকে ফোন করে বলে- বাবা আপনি একটু আমাদের বাসায় আসেন। আমি হাইমচর থেকে শহরে তাদের নাজির পাড়াস্থ ভাড়া বাসায় আসি। তার কিছুক্ষন পরে পঙ্কজের ট্রেনে কাঁটা পড়ে মৃত্যুর সংবাদটি শুনতে পাই। তবে লোকমুখে এ সব কথার সত্যতা কতটুকু এ সম্পর্কে জানা যায়নি !
এমনকি এ সব কথা সম্পর্কে পঙ্কজের স্ত্রী ঝর্ণা কিংবা তাদের বড় মেয়ে প্রমার বক্তব্য নিতে গিয়ে তাদেরকে তাদের ভাড়া বাসায় পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ঘটনার পর পরই তড়িঘড়ি করে ঝর্ণা তার ২ মেয়ে প্রমা ও নিধি কে নিয়ে উদাও। হয়তো তারা হাইমচর উপজেলার ৬নং চরভৈরবী ইউনিয়নে ঝর্ণার বাপের বাড়ি চলে গেছে। এদিকে এ ঘটনায় রেলওয়ের স্টেশন মাষ্টার শিমুল বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে রেলওয়ে থানায়। মামলা নং-০২/২০২০।
এ ব্যপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর রেলওয়ে থানার এসআই মোঃ সোয়ায়েব হোসেন জানান,লোকমুখে অনেক কথাই আমাদের কানে এসেছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের কারোরই কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমাদের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে এখন পর্যন্ত আমরা কাউকেই কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করিনি ! চাঁদপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সারওয়ার আলম জানান,মৃত পঙ্কজের মোবাইল ফোন ও কিছু আলামত আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনরকমের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে তদন্ত স্বার্থে আমাদের যা করনীয় আমরা অবশ্যই সেটা করবো। এখন আপাতত মৃতের দেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে খবর নিয়ে জানা যায়,দুপুর পৌনে ৩ টায় শহরের ছায়াবানীতে রেললাইনে কাটা পড়ে দুখন্ড হন পঙ্কজ। তিনি লেকের পাড়ের হাজী ভিলাস্থ মেডিল্যাব ডায়গনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ১৯৬৮ সালের ১ আগষ্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত বিভূত মজুমদার ও মাতা সুচারু মজুমদার।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…