• সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

হাইমচরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন ॥ শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে

আপডেটঃ : রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চাঁদপুর জেলাধীন হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে ৩০০শ’কোটি টাকায় নির্মিত চাঁদপুর-হাইমচর শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গনঠেকাতে ও শহররক্ষা বাঁধ রক্ষায় জিও ট্রেক্যটাইল ব্যাগ নিক্ষেপ করে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেস্টা চালিয়ে যাচেছ। গত ২দিনে ভাঙ্গন এলাকার প্রায় ১হাজার কি:মি: জমিজামা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। শহর রক্ষা বাধেঁর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ফাটল দিয়েছে। এ ফাটলের কারনে এলাকার হাজার-হাজার মানুষ মারাত্বক আতংকের মধ্যে রয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়,হাইমচর উপজেলার ৬নং চরভৈরবী ইউনিয়নের আমতলি এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। মেঘনার আকস্মিক ভাঙ্গনে মসজিদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নদীর পাড় সংলগ্ন বসতভিটা এবং ভাঙ্গন রক্ষাবাঁধ রয়েছে হুমকির মুখে। শনিবার বিকেল থেকে মসজিদসহ বাঁধ রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ভাঙ্গন এলাকা রক্ষা কল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ট্রেক্যটাইল ব্যাগ নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে।

মেঘনার ভাঙ্গনের সংবাদ পেয়ে শনিবার সকালে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু রায়হান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী বেগম নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ ছাড়া পরে চরভৈরবী ইউনিয়নের জালিয়ার চরে নদী ভাঙ্গনকৃত এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু রায়হান বলেন, আপনাদের সেবা করাই আমাদের কাজ। আপনাদের বসতভিটা, মসজিদ, জায়গা-জমিন নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাবে, তা আমরা হতে দিতে পারি না। আমি সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে চলে এসেছি। খুব দ্রুত জিও ব্যাগের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন থেকে আপনাদের এই এলাকাকে রক্ষা করার চেষ্টা করবো। খুব সহসাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ করে স্থায়ীভাবে নদী ভাঙ্গন রোধ করা হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারমান নূর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আমি গতকাল রাতে নদী ভাঙ্গনের সংবাদটি পেয়েছি। রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে সকালে ঘটনাস্থলে এসেছি। যতদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকবে, যতদিন ডাঃ দীপু মনি এমপি থাকবেন ততদিন হাইমচরে সর্বনাশা মেঘনায় আর কেউ বসতভিটা হারাবেন না ইনশাআল্লাহ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী বেগম বলেন, ভাঙ্গনকৃত এলাকাটি আমি পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে নির্দেশনা দিয়েছি।

ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ আলী মাস্টার জানান, গত ক’দিন ধরে হঠাৎ করে আমার এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে সরকারের স্থায়ী প্রকল্প ভাঙ্গন রক্ষা বাঁধ চরম হুমকির মুখে রয়েছে। আর একদিন অতিবাহিত হলে স্থানীয় মসজিদটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানালে কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে এসে তাৎক্ষণিক পাউবোর জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছে।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…