গাজী মমিন,ফরিদগঞ্জ:
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের কড়ৈতলী বাজার হতে পাটওয়ারী বাজার অভিমুখী রাস্তাটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এক কিলোমিটার এই জনগুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন আট থেকে দশটি স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাসহ আশে-পাশের বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা প্রায় ৭থেকে ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। ওই স্থানের আশে-পাশের রাস্তা গুলো মানুষের চলাচলের মোটামুটি উপযোগী হলেও এই কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-নজর না দেয়ায় রাস্তাটি এখন পথচারীদের নিত্যদিনের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাস্তাটি দেখতে গেলে স্থানীয়রা জানায়, এ রাস্তাটি দিয়ে কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়, কড়ৈতলী আলিম মাদ্রাসা, পাইকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শাশিয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শাশিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাচিয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাছিয়াখালী মাদ্রাসা, দক্ষিণ শাশিয়ালী এম এ বারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ উপজেলা সদরে ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, চান্দ্রা স্কুল এন্ড কলেজ, গল্লাক কলেজসহ আরো কয়েকটি পাঠশালার শিক্ষার্থীরা এ রাস্তাদিয়ে শিক্ষাঙ্গাগণে যাতায়াত করে। এছাড়াও হাজারো মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের ভরসার স্থান, পাটওয়ারী বাজার, কড়ৈতলী বাজার, শাহী বাজার, চোরাঙ্গী বাজার সহ কয়েকটি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারাসহ অত্র অঞ্চলের প্রায় ১০ টি গ্রামের মানুষ চলাচলের একমাত্র প্রধান মাধ্যম এই রাস্তাটি। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই জনবহুল এই রাস্তাটি কাদা গর্তের কারণে যানবাহন তো দুরের কথা পায়ে হেঁটে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অঞ্চলের গর্ভবতি মায়েদের সহ অসুস্থ মানুষ গুলোর চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে ঘটে মহাবিপত্তি ,এই রাস্তাটির উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক বিপদসংকুল হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা আরোও জানায়, দূর্ভোগ জনিত এ রাস্তাটি ব্যবহার না করে অন্য রাস্তাদিয়ে রাস্তাদিয়ে যাতায়াত করলে প্রায় ৬ হতে ৮ কিলো রাস্তাপার হয়ে নিজের গন্তব্যস্থানে যাওয়া লাগে।
রাস্তায় যাতায়াতকারী স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক ও আনসার ভিডিপির রফিক কমান্ডার বলেন, আমরা এ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নাম হয়তো দেশের উন্নয়নের কোটা থেকে বাদ পড়েছে। এ কারনে আমাদের জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির উন্নয়নে কখনো কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার রাস্তাটি সংস্কারের একটি ইটের কক্রিট ফেলেও গর্ত গুলো ভরাট করে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার, সাছিয়াখালী মাদ্রাসার শিক্ষক আমানুল্লাহ খান ফারাবী ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে খুব কষ্ট হয়। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন আমাদের বিদ্যালয় ছাড়াও আট থেকে দশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা এবং অত্র অঞ্চলের হাজারো মানুষ এই কাদার মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য পিএম আক্তার হোসেন বলেন, হ্যা আমিও দেখেছি রাস্তাটির দূর্ভোগ, এমপি মহোদয় ও চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে রাস্তাটি মেরামতের চেষ্টা করছি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলী আক্কাস ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যানের নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কলদিলে চেয়ারম্যানের ছেলে শরিফুল ইসলাম অপরপাশ থেকে মোবাইল রিসিভ করে বলেন, আব্বা ব্যস্থ আছে এখন কথা বলবেনা, তাছাড়া আপনি মেম্বারের সাথে যখন মোবাইলে কথা বলেছেন আমি সুনেছি মেম্বার কাকা যে কথা বলছে সেটাই।

Share This post