মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
আজ রমজানের ২২তম দিন। ঈদের এখনো আট দিন বাকি। এরই মধ্যে বাড়ছে ঈদের কেনাকাটা। প্রাণঘাতী ও মহামারী করোনাভাইরাসের ভীতি এবং গ্রীষ্মের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ফুটপাত থেকে শুরু করে কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিশেষ করে অভিজাত পোশাকের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লেগেই থাকে। এ যেন জনযট। চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, কচুয়া, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও হাইমচরের বড় বড় হাট-বাজারগুলোর সর্বত্রই দেখা গেছে উৎসবের আমেজ।
ঈদ সামনে রেখে সরকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট খুলে দিয়েছে। কথা ছিল ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। করোনাভাইরাসের এমন ঊর্ধ্বমুখীতে সামাজিক কিংবা শারীরিক দূরত্বের কোথাও বালাই নেই। নেই কারো মধ্যে সতর্কতার। ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি চিন্তা করে সরকার যে উদারতা দেখিয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করেননি ব্যবসায়ীরা।
এদিকে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সড়ক নিয়মিত দখলে রেখেছে সিএনজিচালিত স্কুটার, অটোরিক্সা, মিশুক ও রিকশা জাতীয় ছোট পরিবহনসহ ব্যক্তিগত গাড়ি। আবার মাইক্রো ও প্রাইভেট কারের মাধ্যমে দূরপাল্লার যাত্রীদের পরিবহন করতে দেখা গেছে। এমনকি এ্যাম্বুলেন্সে করে যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। দেখা গেছে ঈদের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই হাজীগঞ্জ বাজারে গাড়ির চাপ বাড়ছে। দেখা মিলেছে মৃদু যানজটের।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাপড় ও জুতার দোকানগুলো ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতারা পছন্দের জিনিস কিনতে এসে স্বাস্থ্যবিধি ভুলতে বসেছেন। তবে মাস্ক পরার প্রবণতা বাড়লেও নেই শারীরিক দূরত্ব। দোকানগুলোয় নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার। একই পণ্য একাধিক ক্রেতার সংস্পর্শে আসছে। এতে কেউ করোনার জীবাণু বহন করে থাকলেও তা অন্য ক্রেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।
এছাড়া ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকেই কেনাকাটা করতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। আবার অনেকেই ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করছেন। পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিকের দোকানে ভিড় দেখা গেছে। সব স্থানেই পুরুষের তুলনায় নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে ঘুরছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। সঙ্গে রয়েছেন শিশুরা। ক্রেতাদের এই ভিড় সামলাতে ব্যস্ত দোকানিরা নিজেদের সুরক্ষার দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড় ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার ক্রেতারা আপাতত ভিড় করছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসতে না পারায় অন্য বছরের তুলনায় এখনো সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। বিক্রেতারা জানান, অনেকেই দেখতে আসছেন। একজন ক্রেতার সঙ্গে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি। এতে ভিড় বেশি দেখা যায়।
করোনা ভাইরাসের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে সরকারের দেয়া তৃতীয় দফার বিধি-নিষেধ চলছে। আজ ৫ মে তার শেষ দিন। আবারো নতুন করে বিধি-নিষেধের সময়সীমা বাড়িয়ে ১৬ মে করা হয়েছে। তবে তৃতীয় দফার বিধি-নিষেধের শুরুর দিকে জনসমাগম ও গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পুলিশের যে সরব ভূমিকা ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে দেখা গেছে। যার ফলে সড়কে যানবাহনের পাশাপাশি মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে।
করোনা-সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি এরমধ্যে সতর্ক করেছে, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি শিগগিরই খুব খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতাকে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। পরিধান করতে হবে মাস্ক। অর্থাৎ মাস্ক ছাড়া দোকানে ক্রেতার প্রবেশ নিষেধ, আবার দোকানীর মুখে মাস্ক না থাকলে, ক্রেতারা সেই দোকানে প্রবেশ করবে না। বজায় রাখতে হবে শারীরিক দূরত্ব। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান ও পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।

Share This post