গাজী মমিন, (চাঁদপুর) ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ড্রেজিং করে বালি উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। ডাকাতিয়া নদী থেকে শুরু করে পুকুর খাল বিল এমনকি ফসলি জমিও বাদ পড়ছে না ড্রেজিং এর করাল থাবা থেকে। গ্রীষ্ম শীত, কিংবা বসন্ত সব মৌসুমে বিভিন্ন নদ-নদী, ফসলি জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন চলছেই। আপাত দৃষ্টিতে ক্ষতি দৃষ্টিগোচর না হলেও অদুর ভবিষ্যতে ড্রেজিং করা স্থানের আশপাশে দেবে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্তাব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট মহলকে ম্যানেজ করে অনেকটা দাপটের সঙ্গেই বালি উত্তোলনের এই অবৈধ মহোৎসবে মেতেছেন প্রভাবশালী বালুদস্যুরা।
বিশেষ করে করোনাকালিন সময়ে ও লকডাউন চলাকালে অনেকটা নির্বিঘ্নেই দিনে-রাতে সমানতালে ড্রেজার দিয়ে চলছে ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এতে করে বিনষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি। ফলে কমতে শুরু করেছে খাদ্য উদ্বৃত্ত। এছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় প্রতি বছর বর্ষার সময় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হলেও তথাকথিত উন্নয়ন কাজের বুলি তুলে এসব কর্মকাণ্ড চালায় বালু খেকোরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চরবসন্ত গ্রামের ইটভাটার পাশে ধুমধাম করে বসানো হয়েছে উন্নত মানের ড্রেজিং মেশিন, ১০ নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাঁসা গ্রামের ফতেহ আলী পাটওয়ারী বাড়ির পাশে চলছে বালি উত্তোলন, ১১ নং চরদু:খিয়া পূর্ব ইউনিয়নের সন্তোষপুরসহ বেশ কিছু এলাকাতে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন দেদারছে সে বালু বিক্রি করছেন একটি অসাধু চক্র। এভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে অবৈধ ড্রেজিং মেশিন।

 

স্থানীয় প্রশাসন ২/১টি স্থানে অভিযান চালিয়ে ড্রেজিং মেশিন ও পাইপ ভেঙ্গে দিলেও তারা আসার পরপরই সেগুলো মেরামত করে আবার সচল করা হয়। পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের চরবসন্ত গ্রামের ইটভাটার পাশে ড্রেজিং করে বালি উত্তোলন বিষয়ে স্থানীয় মুকবুল আহাম্দ হাজী গত ১৯ এপ্রিল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করলেও অদ্যবদি ব্যবস্থা নেয় নি প্রশাসন। অন্যদিকে ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাসা গ্রামে ড্রেজিং বিষয়ে জনৈক ইসমাইল হোসেন গত সোমবার ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করে।

 

ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে জানিয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে আশপাশের মানুষের বসতবাড়ী ভেঙে যায়। জমির ওপর বালি মাটি পড়ে পলিমাটি ঢেকে যায়। এভাবে এক জায়গার মাটি অন্য জায়গায় সরে গিয়ে অভিযোজন ঘটে। ওইসব কারনে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার ফলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়।

 

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ড্রেজিং এর কারণে ফসলি জমি নষ্ট করা হচ্ছে, তাতে করে কৃষি আবাদের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি জানান, অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share This post