গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ:
ফরিদগঞ্জে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে জন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রচন্ড গরম ও তাপ দাহের কারনে বিদ্যুৎ না থাকলে অসুস্থ ও শিশুদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। প্রতিদিন রাত ও দিনের মধ্যে প্রায় ৪/৫ দফা আসা যাওয়ার নামে বিদ্যুতের এ ভেলকি বাজিতে ব্যবসা বানিজ্য অফিস আদালত ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে কামতা সাবষ্টেশন এরিয়া ও পৌরসভার একাংশ ব্যাতিত অপর ইউনিয়নের বাসিন্দারা, তাদের কাক্সিক্ষত বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে গ্রাহকেরা।

বিদ্যুৎ বিভাগে সরকার যে উন্নয়ন করেছে, তাতে ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছাড়া বিদ্যুতের কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। চাহিদার অনুপাতে বিদ্যুৎ সরবারহ থাকলেও অহেতুক কেন বিদ্যুৎ এভাবে আসা যাওয়া করায় পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি বলে মনে করেন গ্রাহকেরা। অপরদিকে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নিয়ে প্রায়শই বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকদের হয়রানীও বেশ চোখে পড়ার মতো।

এদিকে কয়েকদিন পরেই মুসলমানদের এবাদতের মাস পবিত্র মাহে রমজান, বিদ্যুতের চলমান সমস্যা ও ভেলকি বাজি দ্রুত বন্ধ না করলে রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ নামাজ ও সেহেরীর সময় সিয়াম সাধনার এ মাসে ইবাদত বন্দেগী করতে ধর্মপ্রান মুসল্লীদের মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় মুসুল্লিরা।
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়নে দু’টি সাবষ্টেশন রয়েছে, একটি হলো ফরিদগঞ্জ সদরের পাশে নয়ারহাট এলাকায়, অপরটি হলো উপজেলার উত্তরাঞ্চলের কামতা বাজার। জানা গেছে, কামতা সাবষ্টেশনের আওতায় রয়েছে উপজেলার ১ নং ইউনিয়ন হতে ৬ নং ইউনিয়ন পযর্ন্ত। বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, ২৪ কিলোওয়াট। এ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আছে চাহিদার চেয়ে বেশি। পুরো উপজেলা জুড়ে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম এর দেয়া তথ্য সূত্রে সোয়া লক্ষ।
ফরিদগঞ্জ পৌর এরিয়ার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বলেন, শনিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসছি অনেক কষ্ট করে। রবিবার সকালে বাসায় আসতে না আসতে বিদ্যুৎ যে চলে গেল প্রায় আড়াই ঘন্টা পরে আসছে।
উপজেলার ১৫ নং রূপসা ইউনিয়নের রিক্সা শ্রমিক আলমগীর বলেন, সরকার কইছে বিদ্যুৎ নাকি অভাব নাই। তয়লে এতবার বিদ্যুৎ যায় কা?
এবিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. নুরুল হোসাইন জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই । ফরিদগঞ্জে আগের চেয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে মেরামত কাজের জন্য বিদ্যুতের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় সোয়া লক্ষ গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের কোন ঘাতটি নেই।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেলা সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিচালক মো. আলিমে আজম রেজা জানান,বর্তমানে দেশে করোনা মহামারি চলমান থাকায় পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যান কোন মিটিং কল করেন না। তাই পল্লী বিদ্যুতের সাথে সংশ্লিষ্টদের জবাব দিহিতা না থাকার কারনে তাদের নিজেদের স্বেচ্ছা চারিতার দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমি নিজেও একজন গ্রাহক। তাই আমি নিজেও ভুক্তভোগী।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তসলিম জানান, আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা অনেক সময় আমাদের বিদ্যুতের সমস্যার কথা বলে। আমরা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কথার সাথে কাজের কাজ তেমন মিল পাচ্ছি না। পল্লী বিদ্যুতের এ সমস্যার কারনে মাননীয় সফল সরকারের বদনাম হচ্ছে বলে আমি মনে করি।

Share This post