• শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুরে যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা ॥ যাত্রীদের দূর্ভোগ চরমে

আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

ছবি মানব খবর : যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা করছেন মো. আজিম

স্টাফ রিপোর্টারঃ
চাঁদপুর লঞ্চঘাটের নৌ টার্মিনালে যাত্রী ছাউনি দখল করে অবৈধভাবে ফল ব্যবসা করায় যাত্রী দূর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ,লঞ্চের সিডিউল বিপর্যয়ের কারনে লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনিতে তাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়।কিন্তু ঘাটে পর্যাপ্ত লঞ্চ না থাকায় এই অপেক্ষার প্রহর ঘন্টার পর ঘন্টাও অনাকাংখিত সময়ে হয়ে যায়। অথছ লঞ্চের তুলনায় যাত্রী বেশি হওয়ায় তাদের অবস্থানের একমাত্র অবলম্বন ঘাটের যাত্রী ছাউনিটি। অথছ নৌ পুলিশের নাকের ডগায় যাত্রী ছাউনিটি দখল করে ফল ব্যবসা করছে এক ফল ব্যবসায়ী।

১১ই আগষ্ট মঙ্গলবার সরজমিনে ঘাটে গিয়ে যাত্রীদের দূর্ভোগ সচিত্রে দেখা যায়। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করলে জানা যায়,যাত্রী ছাউনিটি দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা ওই যুবকের নাম মো. আজিম উদ্দিন। সে নৌ থানার পিছনেই নিশি বিল্ডিং এলাকার যুবক। স্থানীয় হওয়ার নৌ পুলিশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক রকমের পেশী শক্তির প্রভাব বিস্তার করেই সে দীর্ঘদিন যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা করে আসছে।

তবে যাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যাত্রী ছাউনি দখল করা ওই ফল ব্যবসায়ী যুবক মো. আজিমের সাথে আলাপ হলে তিনি জানান,আমি লক ডাউনের ৬ মাস আগে থেকেই এই যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা শুরু করেছি। তবে এর জন্য আমার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে ১৫’শ টাকা দিতে হয়।

তবে অনেকের ধারনা এই যুবকের থেকে নৌ থানার কেউ-ও প্রতি মাসে উপ-ঢৌকন গ্রহন করছে। যে কারনে যাত্রী দূর্ভোগ উপেক্ষা করে ওই যুবক প্রভাব বিস্তার করে এখানে ফল ব্যবসা পরিচালনা করছে।

অবশ্য বিভিন্নভাবে শোনা যায়,যাত্রী ছাউনি দখল মুক্ত করতে সাংবাদিকদের লেখা-লেখিতে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান করে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ পুলিশ।
এ ব্যপারে চাঁদপুর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সাথে আলাপ হলে তিনি জানান,যাত্রী ছাউনি দখল করা আজিম নামের ওই ফল ব্যবসায়ীর থেকে নৌ থানার কেউ কোন টাকা-পয়সা নেয় না। তবে বার কয়েক তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন,আমরা উচ্ছেদ করার পরও ওই যুবক আজিম যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা করাটা দুঃখজনক। ও যাতে যাত্রী ছাউনি দখল করে এর কোন অংশেই/পাশেই আর ব্যবসা করতে না পারে এ ব্যপারে এবার জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিকে মাসে ১৫’শ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বিকার করেন বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা এ কে এম কায়সারুল ইসলাম। তিনি জানান,যাত্রী ছাউনি দখল করে ব্যবসা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই এক্ষেত্রে তো মাসে টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে ওই যুবক আজিমের থেকে যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে। সে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাত্রী ছাউনি দখলমুক্ত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। ওই যুবকই শুধু নয় আর কেউ-ই যাতে যাত্রী ছাউনি দখল করে কোন ব্যবসা করতে না পারে। সে ব্যপারে কঠোরভাবে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা লঞ্চঘাটের যাত্রী দূর্ভোগ কমাতে সব সময় আন্তরিক বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…