রাফিউ হাসানঃ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ত্রান বিতরনে অনিয়মের কারনে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন ত্রান ও দূর্যোগ কমিটির এক সদস্য।

 

গত ৬ মে বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন। তার অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রসাশক ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করেন তিনি।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারি লিটন ও ওই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মনির চৌধুরীর বিরুদ্ধে ত্রান বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি অভিযোগ দায়ের করেন, দহশ্রী গ্রামের মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র মোঃ আজাদ হোসেন। গত ৫ মে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ওই ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডের মেম্বারদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত সুবিধা ভোগীদের মাঝে ১০ কেজি হারে ত্রানের চাল বিতরন করা হয়।

এসময় সুবিধা ভোগীরা ১০ কেজি চালের পরিবর্তে গড়ে সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাল পেয়েছেন মর্মে অভিযোগ তোলেন সুবিধা ভোগীরা।

 

এবিষয়ে আবেদনকারী মোঃ আজাদ হোসেন বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রান ও দূর্যোগ এবং মাননীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের ত্রান কমিটির একজন সদস্য। এছাড়াও ইউনিয়ন ত্রান কমিটির আহবায়ক না থাকায় ওনার অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। ঘটনার দিন দুপুরে ত্রান পাওয়া ব্যক্তিদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং ১০ কেজির স্থলে সাড়ে ৭ কেজি চাল পাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন আমার সাথে খারাপ আচরন করেন এবং তার দোসর ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মনির চৌধুরী আমাকে মারধর করেন। তিনি আরও বলেন, এসময় মনির মেম্বার আমাকে গালমন্দসহ প্রকাশ্যে মাথা কেটে মেরে ফেলার হুমকি প্রদর্শন করেন। আমি আমার জীবন নিরাপত্তা ও সরকারী স্বার্থ রক্ষায় তাদের এহেন অনিয়ম এবং দূর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযোগ দায়ের করেছি।

 

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন বলেন, এখন পর্যন্ত যে সকল সরকারী দান অনুদান এসেছে আমি তা ৯ ওয়ার্ডের মেম্বারদের মাধ্যমে সুবিধা ভোগীদের মাঝে সুষ্টু বিতরন করিয়েছি। যেখানে আমার কোনো হাত বা ইশারা ছিলো না। সরকারী গোডাউন থেকে যেভাবে এসেছে আমি সেভাবেই বিতরন করেছি। যদি সুবিধা ভোগীরা চাল কম পায় তাহলে তার দায়ভার গোডাউন কর্তৃপক্ষ বহন করবেন। এছাড়া ওই ঘটনাতে আমার কোনো ভুমিকা নেই বা ছিলো না। ত্রান বিতরনের সময় ট্যাগ অফিসার মোঃ শাহজান মিয়া উপস্থিত ছিলেন। যদি কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তা আমার পরিষদের বাইরে ঘটেছে। যার দায়ভার আমার উপর বর্তায় না।

 

ট্যাগ অফিসার মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, ওইদিন সকালেই চেয়ারম্যান সাহেব প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বারদের মাধ্যমে গোডাউন থেকে আসা চাল গুলো সুবিধা ভোগীদের মাঝে বিতরন সম্পন্ন করেন। যে ঘটনা ঘটেছে তা ত্রান বিতরনের পরেই ঘটেছে।

 

৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মনির চৌধুরী বলেন, আজাদ আমার সাথে অহেতুক কথা কাটাকাটি করে আমার গায়ে হাত তুলেছে। যে কারনে আমি তার বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

Share This post