• সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুরের মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ফের ধস ॥ দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আপডেটঃ : সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩

ফখরুল ইসলাম মজুমদার:
চাঁদপুরের মতলব সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কারের এক বছর না যেতেই আবারো ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতুটি উদ্ধোধনের চার বছরের মাথায় কয়েকটি স্থানে ধস পড়েছে। যার কারণে সৃষ্টি হয়েছে বিরাট গর্তের। আশঙ্কার মধ্যে দিয়েই চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন।
গত ২ দিনের ভারী বর্ষনের কারণে ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিত মতলব সেতুর পূর্ব দিকের অ্যাপ্রোচ সড়কে ফাটল দেখা দেয়।
অ্যাপ্রোচ সড়কের নীচের বালু সরে যাওয়ায় ১২ ও ১০ ফুট দীর্ঘ এবং ৮ ও ১০ ফুট চওড়া গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া আরও কয়েকটি স্থানে ফাটন দেখা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী বিপদজনক ওইটি। যার কারণে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সতর্কতা হিসেবে গর্তের স্থানটির পাশে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছে। সওজ কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ৫/৬ দিনের বৃষ্টির পানির চাপে এ ঘটনা ঘটেছে।
২ এপ্রিল রোববার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির উত্তর পাড়ের পশ্চিম দিকে অ্যাপ্রোচ সড়কের এক পাশে ফাটল এবং ভয়ানক গর্তের সৃস্টি হয়েছে। ওই ফাটল ও গর্তের স্থানটি ঘেঁষে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ সব ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই চলছে।
চাঁদপুর সওজ বিভাগের কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ধনাগোদা নদীর ওপর ২০১৫ সালে সরকারের অর্থায়নে ৩০০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের ওই মতলব সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চাঁদপুর সওজ বিভাগ সেতুটির নির্মাণকাজ হাতে নেয়।
‘রানা বিল্ডার্স’ নামে কুমিল্লা এলাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালে ওই নির্মাণকাজ শেষ করে। সেতুটির দুপাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ এতে মোট ব্যয় হয় ৮৬ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মামুন,ইয়াকুব আলী ও আহম্মদ হোসেনসহ আরও ৫/৭ জন ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, অ্যাপ্রোচ সড়কটির নির্মাণকাজ মানসম্মত না হওয়ায় চার বছর যেত না যেতেই সেটি ধসে পড়ে।
এছাড়া বিগত বর্ষা মৌসুমে এ সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পার্শ্বে ছোট ছোট গর্তের সৃস্টি হয়েছিল। সাথে সাথে তা মেরামত করে ফেলে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, ভয়ানক ধসে পড়া স্থানগুলো মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সওজের লোকজন। সেতুটিতে রাতে কোন আলোর ব্যবস্থা নেই। যার ফলে রাতে ওই অংশের পাশ দিয়ে চলাচল করাও বিপজ্জনক। এগুলো দ্রুত মেরামত করা দরকার।
এ সেতুর ঠিকাদার মো. আলমের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। ওই ঠিকাদারি কাজটির তদারককারী চাঁদপুর সওজ বিভাগের কার্যালয়ের কার্যসহকারী (ওয়ার্ক অ্যাসিসটেন্ট) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
চাঁদপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামসুজ্জোহা বলেন, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির পানির চাপে অ্যাপ্রোচ সড়কটির নীচের বালু সরে যাওয়ায় ফাটল দেখা দেয় এবং বড় ধরনের গর্তের সৃস্টি হয়েছে। ওই অংশে নির্মাণের চেষ্টা চলছে।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…