মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্,
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ জন নিহতের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও র‌্যাব টহলের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ তৎপর রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ছাড়াও প্রতিটি মন্দির ও পূজামন্ডপে ২ জন পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে কুমিল্লায় পবিত্র কুরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ বাজারে পূজামন্ডপে হামলার ঘটনায় জনতা-পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। এই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার খবরে ওইদিন রাতেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বসতঘর ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।
এ ছাড়াও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার সার্কেল (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করছে। শুক্রবার জুমআর নামাজ উপলক্ষে অধিক মুসুল্লীর সমাগমে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

এদিন নামাজের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন, পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতারাও মাঠে ছিলেন। তারা ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীদের সাথে কথা বলেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, উপজেলায় যাতে নতুন করে কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ও পরামর্শক্রমে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিব ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে স্বল্প সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন অতিরিক্ত পুলিশ এবং সার্কেল অফিসারের (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশসহ হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ সব জায়গায় তৎপর রয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও কাজ করছেন। এছাড়াও প্রতিটি মন্দিরের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। এক কথায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা শহরের দিঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে হনুমান মূর্তির কোলে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের দিক থেকে হাজীগঞ্জ বাজারে দিকে একটি মিছিল আসে।
মিছিলটি হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ন জিউর আখড়ায় অবস্থিত পূজামন্ডপে সামনে আসলে মিছিল থেকে কে বা কারা পূজামন্ডপের গেইটের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ মিছিলকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে মিছিলকারীরা।
এ সময় মিছিলকারীর পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে। এ দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এবং পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়। এছাড়াও মিছিলকারীদের ইট-পাটকেলের আঘাতে ১৭ জন পুলিশসহ সাংবাদিক ও পথচারী আহত হয়েছেন।

Share This post