মানবখবর : হাজীগঞ্জে গুলিতে নিহত আলামিন, হৃদয় ও বাবলু।

নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুমিল্লা শহরের একটি পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে দুই কিশোরসহ ৪ জন নিহত ও ২০জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সহিংস পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

বুধবার দিবাগত রাত আটটার দিকে হাজীগঞ্জ বাজারের এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে নিহত ও আহতের বিষয়টি নিশ্চত হওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ১১নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমূড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে হৃদয় হোসেন (১৪) ও একই গ্রামের শামীম (১৯), আলামিন (১৮),এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মো. বাবলু (৩৫)।
আহতরা হলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের মৈশাইদ গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. সবুজ (১৬), হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের প্রিতম (২০), কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকার জুনাশর গ্রামের মো. সিদ্দিকের ছেলে মো. হারেস (২৩) এবং অজ্ঞাত ঠিকানার মিলন।

জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের দিঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে হনুমান মূর্তির কোলে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এই দিন রাত আনুমানিক আটটার দিকে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের দিক থেকে হাজীগঞ্জ বাজারে দিকে একটি মিছিল বের আসে।
মিছিলটি হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ন জিউর আখড়ায় অবস্থিত পূজামন্ডপে সামনে আসলে মিছিল থেকে কে বা কারা পূজামন্ডপের গেইটের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ মিছিলকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে মিছিলকারীরা।
এ সময় মিছিলকারীর পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এ দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এবং পুলিশের গুলিতে ৪ জন নিহত এবং ২০জন আহত হয়। এছাড়াও মিছিলকারীদের ইট-পাটকেলের আঘাতে ১৭ জন পুলিশ আহত হয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আলামিন ও বাবলু নামের দুইজনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে এবং হৃদয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেপার করা হয়।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, নিহতের বিষয়টি জানা নেই। তবে মিছিলকারীদের হামলায় ১৭ জন পুলিশ আহত হয়েছেন।

এদিকে সহিংস পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে বুধবার রাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে ।

Share This post