• শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

মুজিববর্ষের ছোঁয়া পায়নি ঝুপড়িঘরে থাকা ফরিদগঞ্জের শাহাজাহান ও আনোয়ারা দম্পতি

আপডেটঃ : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ:
মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য হলেও ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাহাজাহান ও আনোয়ারা দম্পতির বেলায় কথাটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের জীবনে দেখা মেলেনি এমন কোন দয়াবান বা জনপ্রতিনিধির, যার দয়ায় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মিলবে এদের মাথা গোঁজার ঠাই।
জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বছর (মুজিববর্ষ) উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অসহায় গৃহহীনদের ঘর প্রদান, ভূমিহীনদের ভূমী তথা বাড়ির মালিক বানিয়ে মানবতার যে বিরল দৃষ্টান্ত দেখালেন। তা পৃথিবীর মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার স্থান করে নিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বহীনতায় হয়তো মুজিবর্ষে দেশের উন্নয়নের সাথে সাড়াদেশের অসহায় পরিবারদের জীবনের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ পরিবার টি।
উপজেলার ৪ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আইটপাড়া গ্রামের মালের বাড়ীর বাসিন্দা এ দম্পতির খোঁজ নিতে এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, শাহজাহান মাল ও আনোয়ারার জীবনে দুর্দশার চিত্র। নেই একটি টয়লেটের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বিহীন ঝুপড়ি এই ঘরটিতেই থাকা আবার রান্নার কাজকর্মও করেন এ ঘরের কোনায় ছোট একটি চুলা বানিয়ে। রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এ ঝুপড়িঘরটির হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেন নিয়মিত।
সরকারের সকল সুযোগ সুবিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ পরিবারটি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ধারে ধারে গিয়েও পায়নি কোন সেবা, জনপ্রতিনিধিরাও নেইনি কোন খোজ খবর এ পরিবারটির। খেয়ে না খেয়ে, অসুখে-বিসুখে দিন কাটছে অসহায় এই দম্পতি যুগলের। জনপ্রতিনিধিদের আশে-পাশে বসবাস হলেও এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মত এগিয়ে আসেনি কোন বিত্তশালী।
জানা যায়, বিয়েরপর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও এ যুগলের অন্ধকার জীবনে পূর্ণিমান আলো হয়ে আসেনি একটি সন্তান। তার পরেও ভালোবাসার কমতি ছিলো না এই নিঃসন্তান দম্পতির মধ্যে। যৌবন কালে কোন রকমে দিন মুজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলে বৃদ্ধ বয়সে এসে হয়ে পড়েন অসহায়, সামান্য জমানো টাকা দিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে তা শেষ হয়ে যায়। আর্থিক অভাবে নির্মান করতে পারেননি একটি মাথা গোঁজার ঠাই। গোয়াল ঘরের ন্যায় একটি ঝুপড়ি ঘরে ঝর বৃষ্টিতে বিজে শেষ বয়সে এসে মানবেতর জীবন যাপন করছে এ দম্পতি।
অসহায় শাহজাহান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি চকিদারের ট্যাক্স দেই। সরকারের কোন সুযোগ সুবিদা আমারে দেয়না, ঘর করি দিলে আর বৃষ্টিতে ভিজা লাগতো নো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম মাস্টারকে এদম্পতির অসহায়ত্বের বিষয়টি জানালে তিনি এপ্রতিনিধিকে বলেন, তাদেরকে আমার কাছে আসতে বইলেন।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন জানান, বিষয়টি আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখে উর্ধ্বতন মহলের সাথে আলোচনা করবো।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…