মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ :

রাত পোহালেই (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আযহা। ত্যাগের মহিমায় এই ঈদ উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কোরবানি। আর কোরবানিকে সামনে রেখে প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসে পশুর হাট। করোনা ভাইরাসের এই অতিমারীর মধ্যে এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু স্বাস্থ্য বিধি মেনে এই পশুর হাট বসার কথা থাকলেও হাটগুলোতে ছিল মানুষ ও কোরবানির পশুতে একাকার। এ বছর উপজেলার ২১টি স্থানে এই হাট বসে।

পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়। শারিরিক দূরত্বের বালাই নেই। বেশিরভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। হাতে গোনা দু-একজনের মাস্ক থাকলেও কথা বলার সুবিধার্থে মুখ থেকে তা নামিয়ে রেখেছেন ঠোঁটের নিচে। এছাড়াও স্যানিটাইজারের ব্যবহার হাটের কোথাও দেখা যায়নি। ছিলো না হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা মাইকে ঘোষণা দিয়েই দ্বায় সেরেছেন ইজারাদাররা।

অর্থ্যাৎ হাটে আসা লোকজনের মধ্যে গা ঘেঁষেই কোরবানির পশু কেনার প্রতিযোগিতা লক্ষ করা গেছে। কি ক্রেতা এবং বিক্রেতা, সবার একই অবস্থা ছিল। করোনাভীতিকে সামনে রেখে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলে কিংবা নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু ক্রয়-বিক্রয় করবেন, এমন কিছু কোথাও কারও মধ্যে এবং কোন হাট-বাজারে দেখা যায়নি। যেন করোনার সংক্রমণের কথা সবাই বেমালুম ভুলেই গেছেন।

মাস্ক না পরার বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন তড়িঘড়ি করে পকেট থেকে মাস্ক বের করেন। এ দিকে গতকাল সোমবার শেষ মূহুত্বে উপজেলার সবচে বড় পশুর হাট হাজীগঞ্জ বাজার ও বাকিলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতাই বেশি। এ বছর করোনার কারণে আর্থিক সংকটে অনেকেই কোরবানির ব্যাপারে এক রকম সিদ্ধান্তহীতায় রয়েছেন। যার ফলে এদিন অন্য দিনের তুলনাই পশুর দাম কম ছিল।

এ ছাড়াও সাপ্তাহিক অন্যান্য হাটগুলো পরিদর্শন করে একই চিত্র দেখে গেছে। হাটে ক্রেতার ছেয়ে বিক্রেতাই বেশি ছিলেন। এর অন্যতম কারণ ছিল, একদিকে করোনা আর্থিক সংকট, অন্যদিকে অনলাইনে পশু ক্রয়। তবে গতকাল সোমবার যে দামে পশু বিক্রি হয়েছে, এই দাম অপরিবর্তিত থাকলে অনেকেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অর্থ্যাৎ সস্তায় পশু পেলে আজ শেষ দিনে (মঙ্গলবার) হয়তো ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

Share This post