• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

ফরিদগঞ্জে সরকারি গাছ আত্মসাৎ ॥ বন বিভাগের দায়িত্বহীনতা বলছেন স্থানীয়রা

আপডেটঃ : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

গাজী মমিন,ফরিদগঞ্জ:
গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান এ স্লোগানে সামনে রেখে প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ রক্ষার জন্য যে খানে, সরকার দলীয় নেতাকর্মীগণ, প্রশাসন সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষজন গাছ রোপন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সেখানে সরকারি গাছ কেটে পরিবেশ নষ্ট করা সহ সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের যোগাযোজ রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নিজ মালিকানা দাবী করে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ জুন শনিবার উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিন ইউনিয়নের নলডুগি গ্রামে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গোবিন্দপুর (দক্ষিন) ইউনিয়নের আইলের রাস্তা-রামপুর সড়কের নলডুগী মিজি বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সরকারি কাছ কাটা হচ্ছে। ২টি রেইন ট্রী ও ১টি মেহগনি গাছ কাটাচ্ছেন আবুল বাসার নামের এক ব্যক্তি। গত ৯ মার্চ ২০২১ইং আবুল বাসার নিজ মালিকানা সম্পত্তিতে গাছগুলি দাবী করে ঐস্থানে তিনটি গাছ কর্তণের আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা বন কর্মকর্তাকে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিলে, বন কর্মকর্তা আবেদনকারীকে গাছ কাটার নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন আবুল বাসার। গাছ কাটার সময় গ্রাম পুলিশের সদস্য ছলেমান মিয়াকে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে আবেদনকারী আবুল বাসার জানায়, আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করে এবং উপজেলা বন কর্মতার কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে গাছ কাটছি এতে অপরাধ কি? ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিজেকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে বলেন, আমার জানামতে গাছ কাটার অনুমতি প্রশাসন এখনও দেয়নি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে মাত্র। তবে, বিষয়টি সমঝোতার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখান উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের।
গাছকাটার সময় উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্য ছলেমান জানান, গাছ টেন্ডার নিয়েছে হোসেন মিয়া আর বিক্রি করেছে আবুল বাসারের নিকট। আপনি কি করছেন এ প্রশ্নের জবাবে জানান আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দরখাস্তের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দহোদয় আমাকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। যেহেতু স্থানীয় সরকারের রাস্তার গাছ সে জন্য আমি আবার দরখাস্তটি স্থানীয় এলজিআরডি অফিসে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিবেদনসহ দিয়ে আসি। টেন্ডার হয়েছে কি না আমি জানি না। টেন্ডার কমিটিতে আপনার কোন ভূমিকা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কমিটির সদস্য সবকিছু সম্পাদনের পর আমার স্বাক্ষর নিলেও চলবে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ফোনে বলেন, আপনারা ওখানে সময় নষ্ট না করে চুপচাপ তেলের পয়সা নিয়ে চলে আসুন। আপনি গাছ গুলো সরে জমিনে দেখা বা ইউএনও মহোদয়ের নিদের্শনা মোতাবেক কোন প্রকার তদন্ত করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা না বলে মোবাইল ফোনের লাইনটি কেটে দিয়েছেন। পর্বতিতে তাকে ফোন দেয়া হলে তিনি অপর প্রান্ত থেকে কলটি কেটে দিয়েছেন। ঘটনার পরেরদিন রবিবার সকালে অফিস চলাকালিন সময় উপজেলা বন কর্তকর্তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশল অফিসের(এলজিআরডি) অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আইয়ুব খান এ বিষয়ে বলেন, আমি সন্ধ্যায় ইউএনও মহোদয়ের কাছ থেকে বিষয়টি অবগত হয়েছি। তাৎক্ষনিক আমাদের অফিসের জহিরকে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন কর্মকর্তা আমাদেরকে কোন চিঠি বা দরখাস্ত দেয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাছাড়াও টেন্ডার হলে অফিস বন্ধের দিন কেন গাছ কাটছে, খোলার দিন কাটলে কি সমস্যা হতো।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আ: হান্নান জানান,আমি স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার জানার কথা থাকলেও আমাকে কেউ এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। আমি জরুরী কাজে (রাজধানী) ঢাকায় আসছি। শুনেছি আমার গ্রাম পুলিশের দফাদার ছলেমানও সেখানে উপস্থিত ছিল। অফিস খোলার আগে আমি কিছুই বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিউলী হরি জানান, আমি বিষটি জেনে বন কর্মকর্তা, প্রকৌশল অফিস এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে বলছি। অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, টেন্ডার হলে আমি অবশ্যই জানতাম। তা ছাড়াও আমি বৃক্ষ নিধনের বিরুদ্ধে। আমাদের সরকার যেখানে প্রতি বছরই বৃক্ষ রোপন করে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন, সেখানে অকারনে গাছ কাটার পক্ষে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ রইলো।
উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বন কর্মকর্তা মো: কাউছার আহম্মেদের যোগসাজশে সরকারী গাছ কাটা ও অর্থ আত্মসাতের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। বহুবার এ নিয়ে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা আইন শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা এবং ক্ষোভ প্রকাশও করেছে গণমাধ্যমকর্মীরা সহ স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…