অমরেশ দত্ত জয়ঃ
চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবারে করোনা সংকটকালীন সময় হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশুদের জন্য ঈদ আয়োজন হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আগামীকাল দিনব্যাপী খেলাধূলা ও উন্নতমানের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১৩ই মে বৃহস্পতিবার এসব বিষয় নিশ্চিত করেন সরকারি শিশু পরিবার চাঁদপুরের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ওদের অনেকেরই কোন ঈদেই বাড়ি ফেরা হয়না। লকডাউনে তো নয়ই। বাবা নেই, মা নেই। কারও হয়তোবা বাবা-মা দু’জনেই আছে কিন্তু দু’জনেরই আলাদা নতুন পরিবার। তাতে ঠাঁই হয়নি ওদের। প্রথমে খালা, নানা, নানী বা অন্য কারো কাছে আশ্রিত হয়ে অবশেষ আশ্রয় মিলেছে সরকারি শিশু পরিবার চাঁদপুরে। ওদের অভিভাবক বলতে শুধুমাত্র সমাজসেবা অধিদফতর।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে আমরা অনেকেই হয়তো এবারও পরিবার পরিজনের সাথে ঈদে একত্রিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। কিন্তু ওরা সব উৎসব আনন্দেই আমাদের মতো পারিবারিক আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়। আমাদের এই পরিবারে ১’শ ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদেরকে নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী আর অলংকার দেয়া হয়েছে। শিশুরা আপন মনে আলপনা এঁকেছে রাস্তায়। নিজেদের ঘর সাঁজিয়েছে। আজ চাঁদ রাতে ফানুস উড়িয়ে, বিভিন্নরকম আতশবাজি-পটকা ফুটিয়ে ও তারাবাতি জ্বালিয়ে উৎসব শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে। তাছাড়াও শিশুরা সম্মিলিতভাবে সবাই একে অপরকে মেহেদী পরিয়ে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে মেতে উঠেছে পরম মমতায়।

ঈদের দিনের আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দিনব্যাপী মিউজিক্যাল চেয়ার, হাঁড়ি ভাংগা, বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন ধরণের মজাদার খেলাধূলার আয়োজন রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সবার জন্যই থাকছে পুরস্কারের ব্যবস্থা। মজাদার কুইজ এবং গানের কলি প্রতিযোগিতার ফাঁকে ফাঁকে শিশুরা যখন কিছুটা ক্লান্ত হয়ে যাবে। তখন রকমারি খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকালে পরোটা-সেমাই, বেলা ১১ টায় মিষ্টি-নিমকি, দুপুরে পোলাও, মুরগীর রোষ্ট, গরুর গোশতের সাথে কোমল পানীয় ও দই। বিকেলে চটপটি, রাতে ভাত, গরুর গোশত ও অন্যান্য খাবার হচ্ছে এবারের শিশুদের স্পেশাল খাদ্য মেন্যু।

এ ব্যপারে চাঁদপুর জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার জানান, ঈদে নতুন পোশাক এবং অন্যান্য উৎসবে ওদের নতুন নতুন ইচ্ছাপূরণের মাধ্যমে এদের উৎসবকে হাসিখুশি আর রঙিন করে তুলতে কখনোই আমাদের চেষ্টার কমতি থাকে না। তাই কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও পুরো প্রতিষ্ঠানকে লকডাউনে রেখেও বর্তমানে উপস্থিত ১১৩ জন শিশুকে ঈদের আনন্দে শামিল করার চেষ্টা করেছি। সবাইকে নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী আর অলংকার দেয়া হয়েছে। শিশুদের এই আনন্দ আয়োজনের মূল কারিগর কিন্তু একজনই। তিনি হচ্েেছন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওদের শৈশব বিকশিত হোক আমাদের যত্নে ও ভালোবাসায়। ভালো থাকুক আমাদের হাসি খুশি রঙিন ফুলেরা। সবাইকে ঈদ মোবারক।

Share This post