আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, খেলা হবে। তা হয়ে উঠে নির্বাচনী স্লোগান। এমনকি মঞ্চেও যান তিনি প্লাস্টিকের ফুটবল হাতে। এ শধু চমক দেখানোর বিষয় ছিলো না। সত্যিই ভাঙা পায়ে দারুণ রাজনৈতিক ফুটবল খেলাই দেখালেন তিনি। যে খেলার জয় গেরুয়া দলের হৃদয় ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। মমতা ম্যাজিকে অবশেষে কুপোকাত হয়ে গেলো ভারতীয় জনতা পার্টি -বিজেপি। শুধু কুপোকাত নয়, বিশাল ব্যবধানেই ধরাশায়ী হলো দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই গেরুয়া দল। জোড়া ঘাসফুলের প্রতীকে লড়াই করা তৃণমূল প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঙা পায়ে খেলেই হ্যাট্রিক জয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে দিলেন বাংলায় তিনি এখনও অপ্রতিরোধ্য। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসনের। তবে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তৃণমূল পাচ্ছে ২০৮ থেকে ২১৫ আসন। বিজেপি পাচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৭ আসন। বাম-কংগ্রেস জোটের অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। তারা কোনো আসনই পায়নি।

অন্যদিকে মোদি এবার জয়ের স্বপ্ন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ঢুঁড়ে বেড়িয়েছেন। দিল্লী থেকে বারবার উড়ে এসেছেন এখানে। এর আগে সারাজীবনেও তিনি এতোবার এ রাজ্যে আসেননি। এমনকি গত মার্চে বাংলাদেশ সফরকেও কাজে লাগিয়েছেন নির্বাচনে ভোটারের মন জয়ে। ঢাকা থেকে ছুটে গেছেন ফরিদপুরে। মতোয়া গোষ্ঠীর প্রধানের বাড়ি পরিদর্শনও করেন তিনি। এই মতোয়ারা পশ্চিমবঙ্গে জয় পরাজয়ে চাবিকাঠির কাজ করবে বলে ভেবেছিলেন মোদি। এখানেই শেষ নয়, বারবার মমতাকে হাস্যকর প্রমাণ করতে নানা কৌশল করেছেন, টিপ্পনিও কেটেছেন অনেক। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। অন্যদিকে ট্রাজিক কৌতুক এবার মমতাকেও যেনো ছাড় দেয়নি। দল বিপুল জয় পেলেও নিজের একমাত্র আসন নন্দিগ্রাম থেকে নিজেরই এক সময়ের দলীয় শিষ্য, তারই ঘনিষ্ট শুভেন্দুর কাছে হেরে গেছেন।

এরই মধ্যে ফল মেনে নিয়ে বিজয়ী দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে মমতা তার দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদেরকে এই বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে এই করোনা পরিস্থিতিতে বিজয় মিছিল না করার আহ্বান জানিয়েছেন দলের সবাইকে।

স্থানীয় সময় রবিবার (২ মে) সকাল ৮টায় ভোটগণনা শুরু হয়। সকাল ১২টার দিকেই তৃণমূল ও বিজেপির ব্যবধান এতো বেশি হয়ে যায় যে স্পষ্ট হয়ে যায় তৃণমূল ফিরে আসছে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত ভোট গণনায় আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী তৃণমূল ২১৫ আসন পাচ্ছে এবং বিজেপি ৭৫ আসন। এবিপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১৬ আসন তৃণমূলের ঝুলিতে উঠছে, বিজেপির ঝুলিতে মাত্র ৭৫, বাম-কংগ্রেস জোট কোনো আসন পাচ্ছে না। অন্যান্য দল ২ আসন পেতে পারে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২১৫ আসন পাচ্ছে তৃণমূল, ৭৬ আসন বিজেপি, বাম-কংগ্রেস জোট কোনো আসন পাচ্ছে না, অন্যান্য দল পাচ্ছে ২ আসন।

জিনিউজ বাংলার প্রতিবেদনে দেখা যায়, তৃণমূল ২১৭ এবং বিজেপি ৭৪ আসনে পাচ্ছে, বাম-কংগ্রেস জোটের কোনো আসন নেই। তবে এখনও ভোট গণণা কিছুটা বাকি। তাই বেসরকারিভাবে সম্পূর্ণ ফলাফল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসন সংখ্যা সামান্য ওঠানামা করলেও তা খুবই স্বল্পমাত্রার, যা ফল নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখবে না।

গত ২৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছিল। শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। আট দফায় ভোট পড়ার অন্তর্র্বতী গড় ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ।

এদিন বিকেল তিনটার দিকে অর্ধেকের বেশি ভোট গণনার পর আভাস পাওয়া যায়, প্রদত্ত ভোটের ৫০ শতাংশ তৃণমূলের ঝুলিতেই পড়েছে। সে হিসাবে ধরে নেওয়া যায়, তৃণমূল এবার বামফ্রন্টের রেকর্ড স্পর্শ করতে চলেছে।১৯৮৭ সালের নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল বামফ্রন্ট। রবিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি ভোট গণনা হয়ে যায়। জানা যায়, গণনাকৃত ভোটের ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ পেয়েছে তৃণমূল। অতীতে আর কোনো নির্বাচনেই এত ভোট পাওয়ার রেকর্ড নেই দলটির।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২১১ আসন জিতেছিল তৃণমূল। সেসময় দলটি প্রদত্ত ভোটের ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ পেয়েছিল। তার আগে ২০১১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।

Share This post