• বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

আলু চাষে ব্যস্ত মতলব চরাঞ্চলের কৃষকেরা

আপডেটঃ : শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

 

মনিরুল ইসলাম মনির
গোটা জনপদ এখন আলু চাষে কর্মচঞ্চল। চলবে আগামী এক মাস। গত দুই মৌসুমে আলুর ভালো ফলন ও আলুচাষে লাভবান হওয়ায় মতলব উত্তরের চরাঞ্চলের কৃষকরা এবার উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে আলু চাষ করছেন।
এখলাছপুর ইউনিয়নের চরকাশিমের আলু চাষী জিল্লুর রহমান জানান, অন্য বছরগুলোতে এসময় আগাম আলু বাজারে উঠত। কিন্তু এবার জমি থেকে পানি দেরিতে নামায় আগাম আলু চাষ ব্যহত হয়েছে। আগামী এক মাস ধরে এ আলুর চাষ চলবে। আলু উত্তোলন শুরু হবে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে। আলু রোপণের পর তা পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে সময় লাগে তিন মাস। বর্তমানে বাজারে সরকারি বিএনডিসির বীজ আলুর তীব্র সংকট রয়েছে। তবে সারের কোনো সংকট নেই।
বোরোচরের আলু চাষী জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, বিএডিসির বীজ আলুতে ফলন কম হওয়ায় আমরা এই বীজ রোপণ করি না। হল্যান্ড থেকে আমদানি করা বক্স আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় আমরা এই বীজের ওপর বেশি নির্ভর করি। বেশিরভাগ কৃষক কোল্ডস্টোরে সংরক্ষিত আলু বীজ তৈরি করে ক্ষেতে রোপণ করছে, এতে ফলন বেশি।
আলু আবাদে জেলার কৃষকদের সহায়তা করছেন বাড়ির নারীরাও। তারা বীজ আলু কেটে দিচ্ছেন। কাটার পর শ্রমিকরা তা জমিতে নিয়ে রোপণ করছেন। বর্তমানে বাজারে আলুর চড়া দাম। বীজ আলু কাটার পর অবশিষ্ট কাটা আলু ব্যবসায়ীরা বাড়িতে গিয়েই ১৭-১৮ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আলুর দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
দিনদিন কৃষকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সঙ্গে কমছে শ্রমিকের সংখ্যাও। গ্রামের অনেক কৃষক পরিবারের একাধিক সদস্য প্রবাসী হচ্ছেন। অনেকের আর্থিক অনটন না থাকায় চাষাবাদ ছেড়ে দিয়ে জমি লগ্নি বা ভাড়া দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ টাকা লগ্নি খাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় গত কয়েক বছর ধরে রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ময়মনসিংহ, দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গের শ্রমিকরা ছুটে আসছেন আলু আবাদে। বর্তমানে চরাঞ্চলে জমিতে উত্তরবঙ্গের ৭শ’ থেকে এক হাজার শ্রমিক আলুচাষে নিয়োজিত রয়েছেন। আর এখানকার সচ্ছল কৃষকরা ওই শ্রমিকদের জমি চুক্তি দিয়ে আলু চাষাবাদ করছেন। আলু চাষকে ঘিরে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সব পুঁজিও যাচ্ছে মাটির নিচে অর্থাৎ আলুর জমিতে। আলু চাষাবাদ মৌসুমে উপজেলার সব ধরনের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেয়। কৃষক সামাজিক বিয়ে বন্ধন থেকে বিরত থাকেন। মার্চ মাসে আলুর উঠার পর ব্যবসা-বাণিজ্য, বিয়ে-সাদিসহ সবকিছুই আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠে। বর্তমানে বাজারে সরকারি বিএনডিসির বীজ আলুর তীব্র সংকট রয়েছে, সারের নেই কোন সংকট।
চরওমেদের আলু চাষী বিপ্লব বলেন, আগে পাঁচ একর জমিতে আলু চাষ করতাম, এবার করছি তিন একর জমিতে। বাকি জমি লগ্নি দিয়ে দিছি। সারের দাম ছাড়া সবকিছুরই দাম বাড়ছে, ক্ষেত থেকে পানি দেরিতে নামছে। আশা করছি সবকিছুর পরও লাভের মুখ দেখব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান, সার ও বীজের কোন ঘাটতি এখনো নজরে আসছে না। চাহিদার বেশি সার সরবরাহ করা হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো হলে কৃষক আলু চাষ করে লাভবান হবে।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…