• সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত হয়নি নকশা

আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পেলেও টেন্ডার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি চাঁদপুওে আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। শুধু তা-ই নয়, এখনো কনসালটেন্ট ডিজাইন তথা নকশাও চূড়ান্ত করতে পারেনি। আগামী বছরের জানুয়ারির দিকে কনসালটেন্ট ডিজাইন বিআইডব্লিউটিএর কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

যদি তাই হয়, তারপরই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ তড়িঘড়ি করে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান নৌ-টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেছেন। এখন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। জানা যায়, দুইশ’ বছর আগে ডাকাতিয়া ও মেঘনা নদীর তীরে চাঁদপুর নদী বন্দর স্থাপিত হয়।

ব্রিটিশ শাসন আমলে আইজি এন্ড আরসিন কোম্পানী ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে স্টিমার ঘাট এবং রেলওয়ে স্টেশন প্রতিষ্ঠা করে চাঁদপুর নৌ-বন্দরের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করে। তখন অবিভক্ত বাংলার সাথে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এ নদীবন্দরকে ঘিরেই গড়ে উঠে।

এরপর ২০০০ সালে হঠাৎ নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায় চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল। দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দর চাঁদপুরে একটি স্থায়ী নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ সম্ভব হয়ে উঠেনি। ওই সময় থেকে চাঁদপুর শহরের মাদ্রাসা রোডে ২.৪৮ একর জমির উপর অস্থায়ী নৌ-টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে নৌ-টার্মিনালটির কার্যক্রম ।

কয়েক বছর পূর্বে এটিকে স্থায়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান ওই জমির সাথে আরো দেড় একর বাড়িয়ে প্রায় ৪ একর জমির উপর দ্বিতল ভবনের নতুন লঞ্চঘাট নির্মাণ করা হবে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক ফরহাদুজ্জামান জানান, প্রায় দুই বছর গবেষণার পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে।

তারপর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ২.৪৮ একর জায়গায় ৫০ কোটি ২৪ লাখ টাকায় তৈরি হবে আধুনিক নৌ-টার্মিনাল ভবনটি। কাজ চলাকালে আরো যে ভূমি লাগবে তা একোয়ার করা হবে। যাত্রীদের অভিযোগ, এ নৌ-টার্মিনালে যাত্রীদের নেই কোনো সুযোগ-সুবিধা।

ঘাটে অপেক্ষমান যাত্রীদের জন্য নেই কোনো টয়লেট কিংবা বসার স্থান। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ঢাকা, চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী। যদিও এ নৌ-টার্মিনাল দিয়ে চাঁদপুর-ঢাকা ও চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-পথে প্রতিদিন চলাচল করে প্রায় একশ’ ছোট-বড় যাত্রীবাহী নৌযান (লঞ্চ)। এখানে যাত্রী প্রবেশ ফি পূর্বে ৪ টাকা থাকলেও বর্তমানে ১০ টাকা করা হয়েছে।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

ফেসবুকে মানব খবর…