গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ:

ফরিদগঞ্জে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন রোগীর ভীড় লেগেই আছে। এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে ৩৯টি কমিউিনিটি ক্লিনিক ও ৪ টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে, এছাড়ও ৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল থাকার পরও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারগন রোগীর ভীড় সামলাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে।

চলতি বছরের ১লা জুলাই তারিখে এ হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও চিকিৎসক, সহকারি সিকিৎসক, নার্সসহ সবগুলো পদে জনবল-সংকটে রয়েছে। এতে করে বর্তমানে এ হাসপাতালটিতে বহিঃবির্ভাগ-আবাসিক ওয়ার্ডসহ সকল বিভাগে রোগী সামলাতে চিকিৎসকদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি পরিচ্ছন্ন কর্মীর সংকট থাকার কারনে আবাসিক ওয়ার্ড বহিঃবিভাগসহ হাসপাতালটিতে ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকতেও দেখা যায়। এতে করে হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা রোগীদেরও স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। হাসপাতালটিতে যে পরিমান রোগী আসে, রোগীদের চাহিদামতে চিকিৎসা সেবা দিতে হলে জনবলের শুন্যপদ গুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরণ হলে রোগীদের দূর্ভোগ কমবে বলে মনে করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ভহিঃবিভাগে সেবা নিতে আসা রূপসার বিল্লাল হোসেন জানান, আমি দু’ঘন্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে ডাক্তার দেখাতে পেরেছি, কিন্তু আমাকে কয়েকটা পরীক্ষা দিয়েছে, তার সবগুলো বাহির থেকে করা লাগছে। আপনার এলাকাতে সাব চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে ডাক্তার দেখাননি কেন? তিনি বলেন, সেখানে অভিজ্ঞ ডাক্তার বসেনা।

১৫ নং রূপসা ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আবাসিক ওয়ার্ডের রোগী অসহায় লিপি আক্তার জানান, তাকে ডাক্তার এক্স-রে ও ইসিজি পরীক্ষা দিয়েছে, তা বাহিরে ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার থেকে করেছেন তিনি। একই কথা জানিয়েছেন পূর্ব বড়ালী থেকে সেবা নিতে আসা দিন মজুরের স্ত্রী রহিমা বেগম।

হাসপাতালের ৩য় তলায় পুরুষ-মহিলা-শিশু ওয়ার্ডসহ সব গুলো ওয়ার্ডের শয্যাগুলো পরিপূর্ণ হয়ে ইতিমধ্যে বারান্দা, করিডোরেও রোগীদের সীটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতালের সকল স্থানে রোগীর ভীড় ছিল লক্ষ করার মত। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, ক্রমেই মহিলা ও শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারনে প্রায় প্রতি ঘরেই সকল বয়সী মানুষ জ¦র, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভীড় করছে। ডেঙ্গু, করোনা আক্রান্ত, প্রসূতিসহ বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত রোগী। প্রতিদিন বহিঃর্বিভাগে প্রায় চারশত এবং করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগে প্রায় আটশ জনকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে রোগী বাড়ছে। হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন বিভাগে জনবল কম থাকায় রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু কোনো শয্যা না পেয়ে বারান্দার মেঝেতে বিছানা করে থাকতে হচ্ছে। এ রকম অনেকেই রয়েছেন, চিকিৎসার আশায়। রোগীদের অভিযোগ একবারে সাধারন কিছু ঔষধ পাওয়া গেলেও বেশীরভাগ ঔষধ দোকান থেকে কিনে আনতে হয়। রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা অধিকাংশই করাতে হয় প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফ আহাম্মেদ চৌধুরী জানান, ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন নরমাল ডেলিভারি ও সিজার করানো হয়। বিভিন্ন রোগের রক্ত, পশ্রাব, পায়খানা, ডেঙ্গু, করোনাসহ যক্ষা রোগীদের পরীক্ষা করানো হয়। রোগীর চাপ অনেকটা বেড়েছে। হাসপাতাল ৫০শয্যায় উন্নীত হয়েছে, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি। ১০জন কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও নেই একজনও, ২০জন মহিলা ডাক্তারের স্থলে রয়েছেন ৮জন এদের মধ্যে বরাবরই একাধিকজন থাকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। নার্স, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নকর্মীর সংখ্যাও অনেক কম। বহুবার চাহিদাপত্র দিয়েছি, কিন্তু পাইনি। ল্যাব অপারেটর তিনজনের মধ্যে আছে একজন, দীর্ঘ বহু বছর যাবৎ পড়ে আছে আধুনিক এক্স-রে মেশিন নেই রেডিওগ্রাফার। একটি ইসিজি মেশিন থাকলেও তা নষ্ট হয়ে নামে মাত্র রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দুইজন মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে এতোবড় হাসপাতালের রোগীদের সামাল দেয়া কঠিন। সকাল নয়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত অন্যান্য ডাক্তারগন দায়িত্বপালন করে চলে যান। কখনও কখনও ইমার্জেন্সিতে এত বেশী রোগীর চাপ তাকে যে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার কুলিয়ে উঠেন না।

Share This post