গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের খুরুমখালী গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী অনাথ দাস গত (১৯ জুলাই) সোমবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। নিখোজের এক সপ্তাহপর (২৫ জুলাই) রোববার দুপুরে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়ৈতলী গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর খালে কচুরিপানা বেষ্টিত পানিতে বাসমান অবস্থায় থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুর টিম।
লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় (২৯ জুলাই) বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুর জেলা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুনায়েত কাউছার এসব তথ্য জানান।
গত (২৮ জুলাই) বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান একটি বিশেষ টিম নিয়ে হত্যা কান্ডে ঘটনায় জড়িত আসামী একই ইউনিয়নের কড়ৈতলী গ্রামের গাইনের বাড়ীর সেকান্দর গাইন’র ছেলে সোহাগ (২৫)’কে গ্রেফতার করে। এসময় গ্রেফতারকৃত সোহাগের কাছথেকে অনাথ দাসের ব্যবহারিত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) আসামি সোহাগ হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ারপর আদালত আসামীকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, অনাথ দাসের হত্যাকান্ডে বাকি আসামিদের নামও গ্রেফতারকৃত আসামি সোহাগ হোসেন শিকার করেছেন।
উল্লেখ.গত ২৫ জুলাই রোববার দুপুরে প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় অর্ধগলিত একবৃদ্ধের লাশ স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোহাম্মদ শহীদ হোসেনের উপস্থিততে উদ্ধাকৃত ওই লাশ একই ইউনিয়নের মৎস্য ব্যবসায়ী অনাথ দাসের বলে সনাক্ত করেন অনাথ দাসের ভাই রগুনাথ দাস। এই ঘটনায় নিহত অনাথ দাসের ছেলে সুভাষ দাস বাদী হয়ে তার পিতাকে হত্যার অভিযোগ করে মামলা দায়ের করে। মামলায় অজ্ঞাত আসামীদের দ্বারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটলেও বাদী তার লিখিত অভিযোগে পুর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে একই বাড়ির সুবল দাসসহ ৬জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা নং-৪০, তারিখ-২৫/০৭/২০২১ইং, পুলিশ মামলাটি আমলে নিয়ে ওই দিনই এ মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে।

Share This post