মোঃ জামাল হোসেনঃ

শাহরাস্তিতে পরকীয়া সম্পর্কের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের বেলায়েত হোসেন রিপন (৩৫)। এই ঘটনার সাথে জড়িত উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা রিপনের পরকীয়া প্রেমিক আমেনা বেগম (৩০) ও তার স্বামী মো. ফজলুর রহমান (৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ।

আটকের বিষয়টি শনিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিলন মাহমুদ পিপিএম (বার) নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা পুলিশকে জানায়, মৃত যুবক বেলায়েত হোসেন রিপন এর সাথে আমেনা বেগমের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ২২ জুলাই রাতে রিপন আমেনা বেগমের সাথে দেখা করার জন্য তার বাড়ীতে যায়। ওই সময় আমেনার স্বামী ফজলুর রহমান রিপনকে দেখে ফেললে রিপন দৌঁড় দেয়। যাওয়ার সময় রিপন পথের মধ্যে জালে আটকা পড়ে। তখন ফজলুর রহমান তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে রিপনের মাথায় পিছন দিক থেকে আঘাতর করলে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ফজলুর রহমান ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম একসঙ্গে রিপনের গলায় রশি লাগিয়ে টেনে-হেচড়ে বিলের মধ্যে পানিতে ভাসিয়ে দেয়।

এদিকে রিপন হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী কুলসুম বেগম ২৩ জুলাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে শাহরাস্তি থানায় ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মিলন মাহমুদ বলেন, শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকালে রিপনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পুলিশ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে কাজ শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি। নিহত যুবকের সাথে আটককৃত গৃহবধুর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে রিপন ওই নারীর সাথে দেখা করতে গেলে তার স্বামী তাদেরকে দেখে ফেলে। এরপর স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে এই হত্যাকান্ট ঘটায়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, আমেনা ও ফজলুর রহমানকে শুক্রবার দিনেই আটক করা হয়। তাদেরকে আজ শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে জবানবন্দির জন্য চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় গঙ্গারামপুর গ্রামের খোকনের স্ত্রী কানন বেগম (৪০) মাঠে ছাগল চরাতে গিয়ে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে এটি ওই গ্রামের মৃত মৌলভী মকছুদ আলীর পুত্র রিপনের মরদেহ বলে শনাক্ত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুল মান্নান বলেন, নিহতের গলায় রশি বা কাপড় দিয়ে শ্বাস রোধ করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

Share This post