জিসান আহমেদ নান্নু,কচুয়া ॥
কচুয়া উপজেলার গুলবাহার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। সব ঠিকঠাক থাকলে কচুয়ার একমাত্র সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের শেষ দিকে কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নির্মাণের ঘোষনা দেয়। তারই ধারাবাহিতায় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে গুলবাহার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের কাজ শুরু হয়। কাজের ঠিকাদার লিটন ট্রেডার্সের পক্ষে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কচুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আকতার হোসেন সোহেল ভূঁইয়া এ নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আকতার হোসেন সোহেল ভূঁইয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সার্বিক সহেযাগিতায় ও তাদের উপস্থিতিতে তিনি সরকারি নিয়ম মেনে কাজের গুনগত মান বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে কাজের প্রায় ৮৫ ভাগ শেষের দিকে রয়েছে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার দাবি করেন। তবে পুরোপুরি কাজ শেষ হলেই চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে কলেজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
কচুয়া উপজেলার গুলবাহার আশেক আলী স্কুল এন্ড কলেজের পূর্ব পাশে চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (১০০ টিএসটি প্রজেক্ট) আওতায় মোট ১৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা অর্থায়নে ১৫০ শতাংশ জমির উপর নির্মাণ হচ্ছে সুবিশাল এই কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। দরপত্র অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাল ১৮ মাস ধরা হলেও বর্তমানে ২ বছরের অধিক সময় ব্যয় করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এর তথ্যমতে ২০২১ সালের নির্মান কাজ শেষে হলেই যে কোনো সময় কলেজটি উদ্বোধন করা হবে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ১টি করে কারিগরি বিষয় অর্ন্তভুক্ত থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু থাকবে। অত্যাধুনিক এ টেকনিক্যাল কলেজটি একাডেমিক ৫তলা বিশিষ্ট ভবনের ২৫টি কক্ষ,৩০টি উন্নত মানের টয়লেট ও প্রশাসনিক ৪তলা বিশিষ্ট ভবনের ১৮টি কক্ষ ও ২৩টি উন্নত মানের টয়লেট থাকবে।
কচুয়া উপজেলায় স্থাপিত এই কলেজটি চালু হলে কচুয়া উপজেলার শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষার জন্য শহরমুখী হওয়ার প্রয়োজন হবে না। কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে কলেজটি মনোরম নিরিবিলি গ্রাম্য এলাকায় স্থাপিত হচ্ছে বলে এখানে শিক্ষার কাঙ্খিত পরিবেশ বজায় থাকবে।কচুয়ার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকাতেই নিতে পারবে পছন্দের বিষয়ে ডিপ্লোমা। কচুয়ার শিল্প কারখানার দক্ষ মানবসম্পদের সংকট পূরণ করার পাশাপাশি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হওয়ার ফলে কচুয়ার সমৃদ্ধির পথে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন কচুয়ার বিশিষ্টজনরা।
উল্লেখ্য যে, কচুয়ার উন্নয়নের রূপকার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি’র আন্তরিক প্রচেষ্টায় সরকারি অর্থায়নে গুলবাহার আশেক আলী খান স্কুল এন্ড কলেজ,গুলবাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,গুলবাহার আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে গুলবাহার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

Share This post