মনিরুল ইসলাম মনির :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বোরো ধান ক্ষেতের পোকা দমন করার পাচিং পদ্ধতিতে। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে রোপা ক্ষেত রক্ষায় এ পদ্ধতি একটি কৃষি বান্ধব প্রযুক্তি। সাধারণত এ অঞ্চলের কৃষকরা দুই ধরনের পাচিং ব্যবহার করছে।
লাইভ পাচিং ও ডেথ পাচিং। এ প্রযুক্তি প্রয়োগে ধান ক্ষেতে বালাইনাশক প্রয়োজন হয় না। একর প্রতি ক্ষেতে ১২ থেকে ১৫টি কাঠ দিয়ে টি খুঁটি বানিয়ে কিংবা গাছের ডাল পুতে দিতে হয়। এ পাচিংয়ের (খুঁটি) উপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে।
এর ফলে জমিতে কীটনাশক খরচ কম ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। এছাড়া কৃষকরাও এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে কৃষিবিদরা মনে করছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামগঞ্জের কৃষকদের ক্ষেতে সবুজের সমারোহ। বাতাসে সবুজ শিষ দুলছে। ক্ষেতের মধ্যে কাঠ দিয়ে টি খুঁটি বানিয়ে ও গাছের ডাল পোতা রয়েছে। ওই পাচিং (খুঁটিতে) ফিঙ্গে, শালিক, দোয়েল সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। সুযোগ বুঝে ধানক্ষেতে থাকা ক্ষতিকর পোকা ওইসব পাখিরা খেয়ে ফেলছে। তবে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দৃর্যোগ না হলে চলতি বছর বাম্পার ফলন পাওয়ার উজ্জল সম্ভাবনায় কৃষকের চোখে মুখে উচ্ছলতা ফুটে উঠেছে। কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, মৌসুমে উপজেলার সবকয়টি ইউনিয়নে আমাদের লক্ষ মাত্রার বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতের ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সকল পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অনেকটা কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। উপজেলার সকল কৃষকের মাঝে এ পাদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। উপজেলার ওটারচর গ্রামের আতিক জানান, চলতি বছরে আমি ক্ষেতে পাচিং পদ্ধতির প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। এতে কোনো খরচ নেই। ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নাউরীা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ৮০ শতাংশ জমিতে কাঠ দিয়ে টি খুঁটি বানিয়ে এবং বাড়ীর গাছ থেকে ডাল কেটে ক্ষেতে পুতে দিয়েছি। ঐ ডালে বসা পাখিরাই ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলেছে। এতে যেমন আর্থিক উপকার হচ্ছে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। অত্র ইউনিয়নের ফৈলাকান্দি গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, আমি ৬০ শতাংশ জমিতে একই পদ্ধতি ব্যবহার করছি। ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, ক্ষেতের ক্ষতিকারক ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সকল পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অনেকটা কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। উপজেলার সকল কৃষকের মাঝে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, চলতি বছরে পাচিং পদ্ধতি কৃষকের কৃষি ও পরিবেশ বান্ধব একটি পদ্ধতি। কৃষকদের মাঝে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সকল কৃষকদের পাচিং পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য আমরা কৃষকদের নিয়ে কাজ করছি। কোনো খরচ ছাড়াই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষেতে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারবে কৃষকরা।

Share This post