গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ:
এসএসসি ও এইচএসসি দু’টি তৃতীয় বিভাগের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিভাগের নকল সনদের মাধ্যমে ২০০৪ সালে ফরিদগঞ্জ গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং ২০১৩ সালে ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হওয়ায় এবং শিক্ষকতা পেশায় নিরবিচ্ছিন্ন ১২ বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১৯৯৮ সালে ‘সহকারি প্রধান শিক্ষক’ পদে নিয়োগ লাভ করারসহ বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার ৭ট সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে তলব করেছে আজ।
১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১১ ঘটিকায় অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত দু’জনকে মন্ত্রনালয়ে উপস্থিত থাকতে মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আমিন কাজলের এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমান সাপেক্ষ ৭ অভিযোগ এনে ২০১৯ সালে আগস্ট মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত আবেদন করেন একই প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি মো. মোশারফ হোসেন। দুদক চেয়ারম্যান অভিযোগটি আমলে নিয়ে ০৩-০৯-২০১৯ তারিখে অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়। জেলা শিক্ষা অফিসার ২১-১১-২০১৯ইং তারখে অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে সরেজমিন স্কুল পরিদর্শন করেন এবং স্কুলের সকল সহকারি শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিযোগের আলোকে লিখিত বক্তব্য নেন। যাচাই বাছাইতে জেলা শিক্ষা অফিস অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুদক ২৯-০২-২০২০ তারিখে বিভাগীয় উচ্চতর তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠায়। শিক্ষা মন্ত্রনালয় ১৯-০৮-২০২০ তারিখে ‘সরকারি মাধ্যমিক-১’ শাখায় তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট পেশ করতে বলে।
গত বছর ১০-০৯-২০২০ তারিখে দুদক তদন্তের প্রথম শুনানীর জন্য অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীকে উপস্থিত থাকার জন্য স্কুলের ঠিকানায় চিঠি প্রেরণ করা হয়। চিঠির তথ্য গোপন করে অভিযোগকারীকে না জানিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক একক ভাবে শুনানীতে অংশ নেন। শুনানীতে সনদরে মূল কপি দেখাতে বললে তা প্রতিষ্ঠানে আছে বলে তদন্ত কর্মকর্তাকে পেশ করেননি প্রধান শিক্ষক। শুনানীতে অভিযোগকারী উপস্থিত না থাকায় শুনানী স্থগিত করা হয়। তারপর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় আর শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়নি। প্রায় ৫মাস পর আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি ফের শুনানীতে অংশ নেওয়ার জন্য পৃথক চিঠিতে ডাকা হয় অভিযোগকারী ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে। শুনানীতে প্রধান শিক্ষককে তার সকল শিক্ষা সনদের মূল কপি ও অভিযোগের বিপরীতে তার লিখিত বক্তব্যের অনুকূলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নিয়ে উপস্থি থাকার কথা বলা হয়। একই সাথে অভিযোগকারীকে তার অভিযোগের সত্যতা প্রমানে প্রয়োজনীয় সকল প্রমাণের ফটোকপি ও আরও কোন অভিযোগ থাকলে তা লিখিত ভাবে পেশ করতে বলা হয়।
উল্লেখ্য এর পূর্বে মো. রফিকুল আমিন এর বিরুদ্ধে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয়ে উপজেলার শ্যেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা উপসচিব হাবিবুর রহমান। একই সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কমিল্লার সাথে প্রতারণা করে প্রধান শিক্ষক পরিচয় গোপন করে ব্যবসায়ী পরিচয়ে ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সমপর্যায়ের একাধিক মাধ্যমিক স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় জেলা প্রশাসক চাঁদপুরের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিস শুনানী করে যাতে মোঃ রফিকুল আমিন প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সমপর্যায়ের একাধিক মাধ্যমিক স্কুলের ম্যানেজিং কমটির সভাপতি থাকার অভিযোগটি স্বীকার করেন। আজকের আজ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে দুদুকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শুনানীটি মো. রফিকুল আমিনের দুর্নীতি ও অনিয়মের চতুর্থ শুনানী।

Share This post