মনিরুল ইসলাম মনির :
ভৌগোলিক কারণে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের মতলব উত্তর উপজেলা কয়েক লক্ষ মানুষকে গজারিয়া হয়ে যাতায়াত করতে হয়। মাঝখানে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার প্রস্থ্য মেঘনা নদী থাকায় এতোদিন উপজেলা দুটিতে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। তবে সম্প্রতি সেখানে একটি সেতু নির্মানে উদ্দ্যোগ নিয়েছে সরকার এতেই স্বপ্ন বুনছে দুই পারের মানুষ।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল এর প্রচেষ্টায় কয়েক দফা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সেতু নির্মাণ স্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার প্রকল্পের পরিচালক এর নেতৃত্বে আরো একটি দল স্থান পর্যবেক্ষণ করবেন।
জানা যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) অধীনে মেঘনা নদীর গজারিয়া অংশের কালিপুরা ঘাট থেকে মতলব পর্যন্ত ১.৫ কিলোমিটার অংশে নির্মিত হবে এই সেতু। প্রাথমিক পর্যবেক্ষন শেষে মাটি পরীক্ষার কাজও করা হয়েছে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শুরু হতে পারে সেতুটির নির্মান কাজ।
গত জুলাই মাসে নদীর বিভিন্ন অংশে ৩০ পিলারের মাটি পরীক্ষার কাজ করা হয়। মাটি পরীক্ষার কাজের প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত একজন প্রকৌশলী জানান গত জুন মাসের ২০ তারিখ থেকে তারা মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া জানাতে কথা হয় ট্রলার চালক তোফাজ্জল মিয়া, ছামেদ প্রধান ও তৌহিদ হোসেনের সাথে তারা বলেন সেতু নির্মান হলে তাদের ট্রলারে কে উঠবে। তার পরও তারা খুশি। এলাকাবাসী খুশির কথা চিন্তা করে প্রয়োজন পরলে পেশা বদল করিতেও রাজি তারা। এপথে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে কথা হলে তাদের মধ্যে শাহিনা বেগম, দেলোয়ার বেপারী জানান শীত মৌসুমে যখন কুয়াশার তীব্রতা বেশি থাকে তখন এই নৌ-রুটে নিয়মিত ঢাকাতীর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ঝরের সময় বা সন্ধার পর ট্রলার পাওয়া যায় না। সেতুটি নির্মান হলে তাদের অনেক উপকার হবে। রাজধানী শহর ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ সহজতর পণ্য পরিবহন আমদানি রপ্তানী বাণিজ্য বেপক উন্নতি সাধিত হবে।
এলজিআরডি মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান ১.৫ কিলোমিটার দির্ঘ এই সেতুটি নির্মান কাজ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি) নদীর বেশির ভাগ অংশ গজারিয়ার উপজেলার সীমানায় এবং বাকি অংশ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সীমানাধীন হওয়ায় সীমানা নিয়ে কিছুটা জটিলতা আছে। সম্পূর্ণ কাজটি কয়েক দাপে বিভক্ত করে এলজিআরডির মুন্সিগঞ্জ ও এলজিআরডির চাঁদপুর যৌথভাবে সেতু নির্মানের কাজটি করবে।
বিষয়টির সম্পর্কে এলজিআরডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর সয়েল টেষ্ট কাজ শেষ করা হয়েছে, তবে বৃহদাকারে সেতু নির্মানের জন্য ব্যয়ও হয় অনেক, সয়েল টেষ্টের পর ডিজাইন করলে সম্ভাব্য জানা যাবে। তবে নদীর স্রোত থাকায় নদীশ্বাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মান’সহ বেশকিছু কাজকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। যার ফলে সেতু ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিক সকল বিষয়ে বিবেচনা করে সেতু নির্মানের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছেন তারা অচিরেই এ ব্যপারে চুড়ান্ত সিন্ধান্ত নেয়া যাবে।

Share This post