মানব খবর : বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কালাম।

 

মোঃ হাবিবুর রহমান :
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ আগস্ট শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বলাখাল মুকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের হলরুমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কালাম। তিনি সংগঠনের দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পরিষদ তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি পূরণে শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাবে এটাই বাস্তবতা। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাবান্ধব মানুষ। তিনি শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক কাজ করেছেন। আমরা একজন সুযোগ্য শিক্ষামন্ত্রী পেয়েছি। তিনি চাঁদপুরের মানুষ, আমাদের অহঙ্কার, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পরিষদ যদি তাদের দাবি-দাওয়া সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আন্তরিকতায় বিদ্যালয় অফিস সহকারীদের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, আমি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি গ্রহণ অবধি বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীদের সহায়তা পেয়ে আসছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা বিস্তারে অফিস সহকারীদের ভূমিকাও কোনো অংশে কম নয়। আমি তাদের সাংগঠনিক সফলতা কামনা করছি। সম্মেলনের শুরুতে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

চাঁদপুর জেলা তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক নন্দন চন্দ্র দের সভাপ্রধানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান (আদনান হাবিব)। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের চীফ রিপোর্টার বিমল চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কার্তিক সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ। বক্তারা তাদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ, তাদের বেতন স্কেল বৃদ্ধিকরণ, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীর নামের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের সচিব নামকরণসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে বলেন, আমরা অফিস সহকারী হিসেবে যারা কর্মরত আছি তাদের অনেকেই মাস্টার ডিগ্রিসহ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। তাই বলে দায়িত্বকালে আমরা আমাদের ডিগ্রিকে কখনো বড় করে দেখিনি, দেখেছি আমার কর্মকে। আমরা সকাল বেলায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু থেকে শুরু করে বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এমনকি বিদ্যালয় ছুটির পরও আমাদেরকে অনেক ক্ষেত্রে রাত অবধি কাজ করতে হয়। কিন্তু কোনো শিক্ষকের যদি বেতন স্কেল বাড়ে আমাদের কিন্তু বাড়ে না। শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে তাদের ভাগ্যোর পরিবর্তন ঘটলেও আমাদের ভাগের পরিবর্তন ঘটে না। অথচ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের উপস্থিতি কোনো অংশেই কম ছিল না। আমরা অধিক পরিশ্রম করেও অন্ধকারেই রয়ে গেলাম।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার মা উল্লেখ করে বলেন, আপনি গরিব-দুঃখী সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্যে অনেক কাজ করেছেন। তাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির মাধ্যমে আমাদের আকুল আবেদন, আপনি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারীদের বৈষম্য দূরীকরণে আন্তরিকতার হাত বাড়িয়ে দিবেন। আমরা আপনার দোয়া প্রার্থী।

সংগঠনের জেলা নেতা আঃ মালেকের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আবুল কালাম, শাহরাস্তি উপজেলা প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন আহম্মদ, চাঁদপুর সদরের দিলীপ দেবনাথ, মোঃ রেদওয়ান খান, হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ পারভেজ হোসেন, ও মানব খবর পত্রিকার ভার্তাসম্পাদক ও কাঁকৈরতলা জনতা কলেজের প্রধান সহকারী মোঃ হাবিবুর রহমান মতলব (দঃ) উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ সুমন মিয়া, সোহেল আহম্মদ ও কচুয়া উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ ফারুক হোসেন। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন সংগঠনের নেতা আঃ কুদ্দুছ চৌধুরী। পবিত্র গীতা পাঠ করেন সুজিত চন্দ্র সাহা।

কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কার্তিক সরকারের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় অধিবেশনে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের মাধ্যমে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট চাঁদপুর জেলা ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীগণ সম্মেলনস্থলে যোগদান করেন।

Share This post