গাজী সালাহউদ্দিনঃ–
—-সম্প্রতি একজন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর খবর ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও পরে জানানো হয়েছে তিনি মৃত্যুবরণ করেননি। স্ট্রোক করে আইসিইউতে আছেন। অবশেষে অবশ্য উনি ১৩ জুন মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সাবেক একজন মন্ত্রীও। তার মৃত্যুর খবরে শোক ও সমবেদনা প্রকাশের পরিবর্তে কিছু মানুষ যেভাবে ট্রল করেছেন তা রাজনীতির জন্য শুভকর নয়। বেশ কিছু কমেন্টসএ তার মৃত্যু নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। অনেকেই ‘হা হা’ রিয়েক্ট করে তাদের উপহাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। যারাএ ধরনের রিয়েক্ট করেছেন, তারা হয়তো ভিন্ন দল-মতের হতে পারে, এর মধ্যে সাধারণ কিছু মানুষের রিয়েক্ট থাকতে পারে। কিন্তু যারাই এটা করেছে তারা কোন প্রকারে সমর্থনযোগ্য কাজ করেনি। তাদের দলের মধ্যেও এবং নিজেদের মধ্যে আদর্শ থাকলে এমনটি তারা করতে পারতনা। রাজনীতিতে সুস্থ ধারার সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু নোংরা ভাবে কোন রাজনৈতিক দল অন্য কোন রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে রিয়েক্ট করা,ট্রল করা এগুলি মোটেই সমর্থন যোগ্য নয়। এজন্য সব দলের মধ্যেই সুস্থধারার রাজনৈতিক চর্চা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমনকি বহির্বিশ্বেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন আদর্শবান রাজনৈতিক নেতা ও সাধুপুরুষ বর্তমানে যারা রাজনীতি করেন ওনারা যদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেন তাহলে তারা কখনোই কোন মানুষের কাছে ঘৃণিত রাজনীতিবিদ হতে পারে না।
নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইনারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র সময় থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতি করে কি অর্জন করলেন! উনাদের মৃত্যুর খবর,অসুস্থতার খবরে সাধারণ মানুষ দুঃখ, শোক ও সমবেদনা প্রকাশ না করে বরং উপহাস করে। এসকল মানুষের উপহাসের ভাষায় মনে হচ্ছে এমন নেতাদের মৃত্যুতে তাদের বুক থেকে শত মণ ওজনের পাথর নামবে। সাধারণত ভালো মানুষের মৃত্যুতে পরিবার -পরিজন, প্রতিবেশী তথা দেশের মানুষ আফসোস করেন। দুঃখ, শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। অসুস্থতায় মানুষ হতাশ হন। সৃষ্টিকর্তার নিকট সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু সম্প্রতি অসুস্থ হওয়া এ রাজনৈতিক ব্যক্তি সাধারণ মানুষের কাছে হয়তোবা ভাল মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে, এ রাজনৈতিক ব্যক্তির দেশের বাইরে পাঁচটি বাড়ি আছে। দেশে ফ্লাট বাসা আছে প্রায় বিশটি। রয়েছে দামি দামি গাড়িও।এতে মানুষের মনে কৌতূহল জাগতে পারে তিনি রাজনীতি করে এত বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেন কীভাবে ? আমাদের দেশের মানুষ এখন সবকিছুই বোঝেন। কিন্তু তারা এ সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কারণে ঠকেও কোন আওয়াজ করেন না। করেন না কোনো প্রতিবাদও। কিন্তু সুযোগ পেলে এরাই এক হাতে নিতে ভোলেন না। আমাদের দেশের মানুষের অন্তত এইটুকু বোধ আছে, যে বড় বড় রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা দেশের বিভিন্ন ভাবে অর্থ তছরুপ এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঠকান। কিন্তু সাধারণ জনগণ যে বিষয়টা বোঝে এই বোধটুকু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে আছে কিনা তা সন্দেহ রয়েছে। দেশের এমপি-মন্ত্রী অবৈধ উপায়ে অর্থ, বিত্ত বৈভবের মালিক হবেন, তো অসুস্থতায় ও মৃত্যুতে মানুষ ঘৃণা আর উপহাসের মাধ্যমে এভাবেই প্রতিবাদ জানাবে। এ প্রেক্ষাপট থেকে এতটুকু অন্তত বুঝা গেছে। এই ঘটনা থেকে বর্তমান অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও শিক্ষা নেওয়ার আছে। জীবনে মরনে অসুস্থতায় মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার বিকল্প নেই। দুর্নীতি বন্ধ করুন,কারণ মৃত্যুকালে অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ ও বিত্ত-বৈভব কোন কাজে আসবে না। বরং ভালো কাজ গুলোই তখন সঙ্গী হবে। শুধু এ বোধ নয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে শুবোধ জাগ্রত হোক এই প্রত্যাশাই করছি।

লেখকঃসাংবাদিক, কলামিস্ট, শিক্ষক ও চারুশিল্পী

Share This post