মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্,
‘প্রতিদিনের সংবাদ’ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘টাকার লোভে পরিদর্শীকার বাড়িতে ডেলিভারি, মৃত্যুর কোলে তরুণী মা’ অভিযোগের তদন্ত করেছে কমিটি। ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি এবং অভিযুক্ত পরিদর্শীকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, চাঁদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ।
এর আগে মঙ্গলবার দিনব্যাপী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক রিপোর্ট পেশ করেছেন তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। কমিটির সদস্যরা হলেন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ডিস্ট্রিক কনসালটেন্ট ডা. মো. নাছির, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা ও চাঁদপুর সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. এম.এ গফুর মিয়া
১০ মে (রোববার) ‘টাকার লোভে পরিদর্শীকার বাড়িতে ডেলিভারি, মৃত্যুর কোলে তরুণী মা’ বিষিয়ক একটি সংবাদ বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক ‘প্রতিদিনের সংবাদ’ পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয়। এরপর নড়ে চড়ে বসেন চাঁদপুরের জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে করা হয় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা জানান, সংবাদে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে বিস্তারিত উল্লেখপূর্বক অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ বলেন, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। রিপোর্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তি সরূপ বিভাগীয় ব্যবস্থায় নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মে (শুক্রবার) বিকালে হাজীগঞ্জে মাহমুদা আক্তার নামের একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা হাফসা আক্তার (১৯) নামের এক গর্ভবর্তী তরুণী মায়ের ডেলিভারী করান। টাকার লোভে তিনি হাসপাতালে না পাঠিয়ে নিজ বাড়িতে ডেলিভারি করার কারনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ দিন রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে এই প্রসূতি মা মারা যান।
অভিযুক্ত মাহমুদা আক্তার চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়ন ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত নিজ বাড়ীতে বসবাস করেন। এবং শুক্রবার বিকালে তিনি ওই বাড়ীতে হাফসা আক্তারের ডেলিভারী করান।
নিহত হাফসা আক্তার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের সাতবাড়ীভাঙ্গা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির আবুল হাশেমের মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের লোধপাড়া গ্রামের বেপারী বাড়ির প্রবাসী আব্দুল মালেকের স্ত্রী। ডেলিভারীতে তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিলেও তিনি সন্তান প্রসবকালীন সময়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে মারা যান।

Share This post