বিশেষ প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর সদরের লাহারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন মুশু পাটওয়ারী ও সদস্য (মেম্বার) মো. সিরাজকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জয় দেবনাথের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কানু ডাক্তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কনিকা দেবনাথ নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ আনে ওই ছাত্রলীগ নেতার পরিবার।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কানু ডাক্তার বাড়ির প্রবাসী কার্তিক চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে প্রতিবেশী উত্তম দেবনাথদের ৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এনিয়ে লক্ষ্মীপুর আদালত ও সদর থানায় মামলা রয়েছে। কয়েকদিন ধরে ওই বিতর্কিত জমিতে উত্তম জোরপূর্বকভাবে দেওয়াল নির্মাণের কাজ করছে। এতে প্রবাসীর চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এনিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী পাপ্পী দেবনাথ ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেনের কাছে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ইউপি সদস্য সিরাজ ও গ্রাম পুলিশকে নিয়ে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল যায়। সেখানে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে চলাচলের পথের সমস্যা সমাধান করতে গেলে উত্তমের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা জয় তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে ছাত্রলীগ নেতা এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মারে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযোগটি অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা জয় দেবনাথ বলেন, চেয়ারম্যান কোন কারণ ছাড়াই আমাদের নির্মাণ করা দেওয়ালটি ভাঙচুর করে। তবে তাদের মারধর করার ঘটনাটি সত্য নয়।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতার বাবা উত্তম দেবনাথ বলেন, চেয়ারম্যান লোকজন দিয়ে আমাদের মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণাধীন দেওয়াল ভাঙচুর করেন। এ সময় সময় বাধা দিতে গেলে আমার ভাইয়ের ছেলে অনুপ চন্দ্র দেবনাথের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চেয়ারম্যান মারধর করে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন মুশু অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগ নেতার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী কার্তিকদের চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে। এ অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে প্রবাসীদের চলাচলের ব্যবস্থা করতে যায়। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা জয় হামলা চালিয়ে আমি ও আমার পরিষদের সদস্য সিরাজকে মারধর করে। অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের ঘটনাটি বানোয়াট।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশান বলেন, জয় দেবনাথ ছাত্রলীগের কেউ নয়। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তাদের দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।

Share This post