মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে পূজামন্ডপ ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলায় জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন নিহতের ঘটনায় ১০ মামলায় এই পর্যন্ত ৫৪ জনকে গ্রেফতার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। এর মধ্যে দুই জনকে এক দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং অপর আসামিদের গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।
এর আগে পুলিশের উপর হামলা এবং পূজামন্ডপ ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২ মামলা এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ৮টিসহ মোট ১০টি মামলা দায়ের করেছেন। এতে জ্ঞাত ও অজ্ঞাতসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার আসামি করা হয়। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জানাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের চাঁদপুরের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ দিকে মকিমাবাদ, রান্ধুনীমূড়া ও টোরাগড় গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করলেও পুলিশ অহেতুক কাউকে গ্রেফতার করছে না বলে নিশ্চিত করেছেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ। সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ক্লিপ দেখে গ্রেফতার এবং গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে যাদের নাম পাওয়া যায় শুধুমাত্র তাদেরকেই আটক করা হচ্ছে। অন্যথায় কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না এবং হবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের দিঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মন্ডপে হনুমান মূর্তির কোলে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওইদিন রাত আনুমানিক আটটার দিকে হাজীগঞ্জে তৌহিদি জনতা নামের একটি মিছিল হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের দিক থেকে হাজীগঞ্জ বাজারে দিকে আসে।
পরবর্তীতে মিছিলটি বাজার হাজীগঞ্জ বাজার দুইবার প্রদক্ষিণ করে পশ্চিম বাজারস্থ রাজা লক্ষ্মী নারায়ন জিউর আখড়ায় অবস্থিত পূজামন্ডপে সামনে আসলে মিছিল থেকে কে বা কারা পূজামন্ডপের গেটের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ মিছিলকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে মিছিলকারীরা।
এসময় মিছিলকারীরা পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে। এদিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এবং পুলিশের গুলিতে ওইদিন হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং পরের দিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন এবং ঘটনার এক সপ্তাহ পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনসহ মোট ৫ জন মারা গেছে।
এই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে ৪ জন আহত এবং মিছিলকারীদের ইট-পাটকেলের আঘাতে ১৭ জন পুলিশসহ সাংবাদিক ও পথচারী আহত হয়েছেন।

Share This post