জিসান আহমেদ নান্নু,কচুয়া ॥
মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের পর আলু চাষে ব্যাপক উৎসাহী কচুয়ার কৃষক। আলু চাষে চাঁদপুরের কচুয়ার বিভিন্ন মাঠ উর্বর হওয়ায় আলুর ফলন ভালো হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর আলুর ফলন ভালো হওয়ায় এবারো কচুয়ার ৩টি হিামাগারে অধিক লাভের স্বপ্ন নিয়ে আলু সংরক্ষন করেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিশ^ব্যাপী করোনার থাবায় ও অন্যান্য কারনে কচুয়ায় এবার লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, কচুয়ার গুলাহার হিমাগারে চলতি মৌসুমে ১লক্ষ ৬৫ হাজার চাহিদা সম্পন্ন দুটি হিমাগারে ৯৬ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষন করা হয়। এছাড়া বাতাপুকুরিয়া মনার্ক কোল্ড স্টোরেজ লি. ২লক্ষ ৯৫ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষন করে। বর্তমানে আলুর অব্যাহত দরপতন ও ক্রেতার অভাবে হিমাগারে বিপুল পরিমান আলু পড়ে রয়েছে। আলু রোপনের মৌসুম শুরু হলেও এখনো অধিকাংশ আলু হিমাগারে সংরক্ষিত পড়ে আছে। ফলে এবারোও পুজিঁ হারানো ও ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছে কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা।
কৃষক সাদেক আলী মিয়া জানান, গত বছর আলুর বাজার ভালো থাকায় এবছরে হিমাগারে আলু মজুদ করেছি। একদিকে হিমাগার দ্বিগুন ভাড়া অন্যদিকে আলুর দাম না থাকায় বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
আলু ব্যবসায়ী মোস্তাফা কামাল,আলমগীর হোসেন,বিল্লাল হোসেন সহ অনেক ব্যবসায়ী জানান,মোকামে চাহিদা কম থাকায় আলী বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে করোনায় বিভিন্ন খাবার রেস্তোরা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আলুর চাহিদা দিনদিন কমে যাচ্ছে। তারা আরো বলেন, প্রতি কেজি আলু ১৮-২০ টাকা দরে হিমাগারে সংরক্ষন করেছি। বর্তমানে ৯-১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। তাও আবার গ্রাহক নেই। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার পুজিঁ হারিয়ে মাঠে বসার উপক্রম দেখা দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলু চাষীদের বাচাঁতে আলুর দাম বাড়ানো দাবি জানিয়েছেন তারা।
মনার্ক কোল্ড স্টোরেজ লি. এর ব্যবস্থাপক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, করোনার কারনে হিমাগারের থাকা আলুর ন্যায্য দাম নিয়ে বিপাকে রয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা । এদিকে হিমাগারের আওতায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আনুপাতিক হারে ঋন দেয়া হলেও ঋনের টাকা আদায় নিয়ে হিমসিমে আছি। হিমাগারে ২লক্ষ ৯৫ হাজার বস্তার মধ্যে এখনো ২লক্ষ বস্তা পড়ে আছে । একই কথা জানান, গুলাবাহার হিমাগারের ব্যবস্থাপক জি.এম জামাল হোসেন, তিনি বলেন ৯৬ হাজার বস্তার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার বস্তা আলু হিমাগারে পড়ে আছে। আর মাত্র ২ মাস আছে। এর মধ্যে আলু বিক্রি কিংবা রোপনের জন্য ব্যবস্থা করতে না পারলে কৃষকের পাশাপাশি আমাদের মালিক পক্ষকেও গুনতে হবে বিশাল ক্ষতি।
কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সোফায়েল হোসেন বলেন, গত বছর আলুর ফলন ভালো ও দাম ভালো ছিল। চলতি মৌসুমে ৩টি হিমাগারে ২০ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষিত করা হয়। আলুর দাম বাড়ানো হলে কৃষকরা লাভবান হবে।

Share This post